সমাচার ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) সর্বশেষ বড় ধরনের সংঘর্ষে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই হয়, বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনে হামলা করে। এই ঘটনায় পুলিশ অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি দাবি করেছে যে তাদের প্রায় ৪০ জন সমর্থককে আটক করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলো দেশজুড়ে মহাসড়ক অবরোধ এবং সরকারি দপ্তরের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
গত ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া আলবেনিয়ার সরকারবিরোধী আন্দোলন ২০২৬ সালের শুরুতে এসে চরম রূপ ধারণ করেছে। প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি (PD) এবং তাদের মিত্রদের নেতৃত্বে রাজধানী তিরানাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এডি রামার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ভোট জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে কুক্ষিগত করার অভিযোগে এই আন্দোলন দানা বাঁধে।
আলবেনিয়ার এই আন্দোলনের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে: সম্প্রতি উপ-প্রধানমন্ত্রী বেলিন্ডা বালুকুর বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার পদত্যাগ ও তদন্তের দাবি আন্দোলনকে গতি দিয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের সংসদীয় নির্বাচনে এডি রামার সোশ্যালিস্ট পার্টি চতুর্থবারের মতো জয়ী হলেও বিরোধী দলগুলো একে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বিরোধী নেতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সালাহ বেরিশার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা এবং তাকে গৃহবন্দি করার ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে দেখছে তার সমর্থকরা।
অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং জনসেবায় অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ফলে বিরোধী দলের দাবি হচ্ছে— প্রধানমন্ত্রী এডি রামার অবিলম্বে পদত্যাগ। একটি তত্ত্বাবধায়ক বা টেকনিক্যাল সরকার গঠন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এবং তার দল সোশ্যালিস্ট পার্টি এই আন্দোলনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘সহিংস থিয়েটার’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে আলবেনিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্য করার যে লক্ষ্য রয়েছে, এই আন্দোলন সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকার ক্ষমতা ছাড়ার দাবি নাকচ করে দিয়ে আইনের শাসন বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল তথা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র আলবেনিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতার পথ পরিহার করে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক মেরুকরণ এতটাই তীব্র যে, সমঝোতার পথ বর্তমানে বেশ ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফলে আলবেনিয়ার এই আন্দোলন এখন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি গভীর কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে। আগামীর দিনগুলোতে এই অস্থিরতা কতদূর গড়ায়, তার ওপর নির্ভর করছে দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের স্বপ্ন।
