রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারদর ধসে পড়ায় চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় হাটবাজারে প্রতি কেজি আলু ৮–৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে উৎপাদন ব্যয় গড়ে ১৪–১৭ টাকা। মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
রহিমাপুর-রামপুরা এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিক মজুরি, সার, বীজ ও কীটনাশক মিলিয়ে প্রতি কেজিতে তার খরচ পড়ছে অন্তত ১৪–১৬ টাকা। “গত বছরও ক্ষতি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আলু চাষ ধরে রাখা কঠিন হবে,” বলেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৪,৫৩০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয় এবং উৎপাদন দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু উপজেলায় থাকা তিনটি হিমাগারের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন। ফলে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের সুযোগ পায় না।
সংরক্ষণ সংকটের কারণে অনেক কৃষক বাড়ির উঠান বা অস্থায়ী গুদামে আলু রাখেন, যেখানে পচন ও অপচয়ের ঝুঁকি বেশি। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে অধিকাংশকে।
চলতি মৌসুমে আবাদ কিছুটা কমে ৩,৪৬৩ হেক্টরে নেমে এলেও ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে বাজারদর উৎপাদন খরচের নিচে থাকায় সেই ফলনই এখন কৃষকের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলমপুর ইউনিয়নের পীরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, “ন্যায্য দাম না পেলে আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে হবে।” একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কুর্শা কাজীপাড়া এলাকার চাষি এমদাদুল ইসলামও।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় জানান, ভালো ফলন সত্ত্বেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং এলাকায় আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প—যেমন চিপস বা অন্যান্য আলুজাত পণ্য তৈরির কারখানা—গড়ে উঠলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে আলুচাষিদের দাবি, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম চালু এবং সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছরই একই সংকট ঘুরে ফিরে আসবে—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
