উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তেহরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আরব আমিরাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে ইরানের কাছে এর ক্ষতিপূরণ চেয়েছে দেশটি।
রোববার (২৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ড. আনোয়ার গারগাশ এমন মন্তব্য করেছেন।
আনোয়ার গারগাশ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো রাজনৈতিক সমাধানের আগে ইরানকে তাদের চালানো ধ্বংসযজ্ঞের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা হবে না—তার আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
গারগাশ আরও বলেন, এই সমাধানে বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর হামলার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের আগে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিবেশীদের ধোঁকা দিয়েছে এবং তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও একটি পরিকল্পিত আগ্রাসন চালিয়েছে। আরব উপসাগরের নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক হুমকি হয়ে ওঠা এই শাসনব্যবস্থাকে মোকাবিলা করার জন্য এই দুটি পথ (গ্যারান্টি ও ক্ষতিপূরণ) অপরিহার্য।
ড. গারগাশের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রোববার ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৪২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এটি গত সপ্তাহের রোববারের তুলনায় (৪টি মিসাইল ও ২৫টি ড্রোন) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হলেও যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় অনেক কম। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাত মোট ৪১৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ১৫টি ক্রুজ মিসাইল এবং ১ হাজার ৯১৪টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী নুরা আল কাবি ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই হামলাগুলোকে ‘জাতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমিরাত এমন একটি নিশ্চয়তা চায় যাতে এটি আর কখনও না ঘটে। এর মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ, নৌ চলাচলের স্থায়ী স্বাধীনতা রক্ষা এবং কেবল নিন্দার পরিবর্তে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো থাকতে হবে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালে এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ইরান বছরের পর বছর ধরে দাবি করে আসছিল, তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। গত এক মাস তার উল্টোটা প্রমাণ করেছে। এই ধরনের সক্ষমতা আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার সাথে সহাবস্থান করতে পারে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি আমাদের সন্তানদের জন্য এমন একটি অঞ্চল রেখে যেতে চাই যেখানে প্রতি দশকে একটি নতুন সংঘাত আর নতুন একগুচ্ছ জানাজা হবে?
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আজ ৩০তম দিনে গড়িয়েছে। এর আগে ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। সেই দাবির পাল্টা জবাবে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের কাছে তাদের শিল্প ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাইল।
