বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×
আলিরেজা আরাফি গার্ডিয়ান কাউন্সিলে মনোনীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খোমেনির বিকল্প আলিরেজা আরাফি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ০১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আলেম ও আইনজ্ঞ আলিরেজা আরাফিকে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা, ইরানের এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের মুখপাত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরাফি এর আগেও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিষদের অন্য দুই সদস্য হলেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কাঠামোয় এই তিনজনের ভূমিকা এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন বলে একাধিক ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়। যদিও এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে। খামেনির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষিত উত্তরসূরি না থাকায় দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেম নিয়ে গঠিত নির্বাচিত সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।

সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন একটি তালিকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলে ধরেছে।

মোজতবা খামেনি, খামেনির দ্বিতীয় ছেলে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং এর স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে শিয়া ধর্মীয় কাঠামোয় পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ঐতিহ্যগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি তিনি উচ্চপদস্থ মুজতাহিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদও নেই—যা তার সম্ভাবনাকে সীমিত করতে পারে।

আলিরেজা আরাফি তুলনামূলকভাবে কম প্রচারিত হলেও তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত আলেম এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে তিনি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের উপ-চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও সংসদে পাস হওয়া আইন যাচাইয়ে গার্ডিয়ান কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আরাফি ইরানের সেমিনারি ব্যবস্থার প্রধান। তবে তাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হয় না এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণও স্পষ্ট নয়।

কট্টরপন্থী আলেম মোহাম্মদ মাহদি মিরবাঘেরিও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। তাকে পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত বলা হয়। বর্তমানে তিনি কুমে অবস্থিত ইসলামিক সায়েন্সেস একাডেমির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার আদর্শিক অবস্থান দেশটির নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

হাসান খোমেনি, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি, ধর্মীয় ও বিপ্লবী বৈধতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি খোমেনির মাজারের তত্ত্বাবধায়ক। তবে তিনি কখনো সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি এবং নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব সীমিত বলে ধারণা করা হয়। তাকে তুলনামূলকভাবে কম কট্টরপন্থী হিসেবে দেখা হয়।

এছাড়া জ্যেষ্ঠ আলেম হাশেম হোসেইনি বুশেহরিও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন। তিনি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। যদিও দেশীয় রাজনীতিতে তার প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে নিম্ন এবং আইআরজিসির সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা গভীর—তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় মর্যাদা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থন এবং ক্ষমতাকাঠামোর ভারসাম্য—সবগুলো বিষয়ই বিবেচনায় আসবে। খামেনির মৃত্যুর পর দেশটি এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নতুন নেতৃত্ব শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...