ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বাড়তে থাকা যুদ্ধ উত্তেজনার প্রভাব শুধু ভূরাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সরাসরি ধাক্কা লেগেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন শেয়ারবাজারের বড় কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স নির্দেশক সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) আবারও নিম্নমুখী হয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে সূচকটি শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬,৬৩২.১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এতে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সূচকটি প্রায় ৫ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান।
যুদ্ধ শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারী থেকৈ শেয়ারবাজারে এই পতন বাড়তে শুরু করে। ওই সময় এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ছিল ৬,৮৭৮.৮৮ পয়েন্টে। এরপর থেকে সূচকটি প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এই পতনের ফলে গত দুই সপ্তাহে এসঅ্যান্ডপি ৫০০- এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে আনুমানিক ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে অবসর সঞ্চয় তহবিল, পেনশন ফান্ড এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ তহবিলের বড় অংশই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে সূচকের ওঠানামা কেবল বড় কোম্পানি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নয়, সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও অবসর তহবিলের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
