সারা বছর একটানা কাজ করার পর লম্বা ছুটি ঈদ উৎসবের আনন্দ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এরই মধ্যে ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাসা-বাড়ি ছেড়ে গ্রামে ছুটছেন। ঈদের ছুটিতে কেউ এক সপ্তাহ আবার কেউ ১০ দিন বাড়ির বাইরে থাকেন।
তবে কোথাও দীর্ঘদিনের জন্য যাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের ঘরটি পরিপাটি করে রেখে তবেই বের হওয়া উচিত। নইলে ঘটতে পারে মারাত্মক বিপদ!
নিজের ঘরটিকে কখনই এলোমেলোভাবে ফেলে রেখে যাওয়া ঠিক না। এক্ষেত্রে ঈদের পর ফিরে এসে বাড়ির সবকিছু গোছানো এবং ক্ষয়ক্ষতিহীনভাবে ফিরে পেতে কয়েকটি কাজ গুছিয়ে যাওয়া উচিত। এমনকি নিরাপত্তার খাতিরে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে তবেই বের হওয়া উচিত ঘর থেকে।
তাই বের হওয়ার আগে মাত্র কিছুটা সময় নিয়ে এ ৭টি কাজ করে নিলে নিশ্চিন্তে কাটবে পুরো ছুটি।
১. দরজা–জানালা ঠিকমতো লক করুন
শুধু তালা লাগালেই নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না; বাড়ির সব দরজা–জানালা ঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না ভালো করে যাচাই করুন। নিরাপত্তা বাড়াতে ডাবল লক বা অতিরিক্ত সিকিউরিটি লক ব্যবহার করতে পারেন। আর বের হওয়ার আগে একবার চারপাশ ঘুরে দেখে নিন কোনো ফাঁকফোকর রয়ে গেছে কি না।
২. বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখুন
বাসা ছাড়ার আগে অপ্রয়োজনীয় সব সুইচ, প্লাগ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে দিন। বিশেষ করে টিভি, মাইক্রোওয়েভ, চার্জারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সংযোগ খুলে রাখা ভালো। এতে শর্ট সার্কিট, বিদ্যুৎ অপচয় এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সম্ভব হলে মেইন সুইচ বন্ধ করে বের হলে নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হয়।
৩. গ্যাসের লাইন চেক করুন
বাসা ছাড়ার আগে গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না নিশ্চিত করুন। বিষয়টি ছোট মনে হলেও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
৪. ফ্রিজ পরিষ্কার করে রাখুন
বাসা ছাড়ার আগে ফ্রিজে থাকা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে—এমন খাবারগুলো বের করে ফেলুন। দীর্ঘদিন বাইরে থাকলে ফ্রিজ খালি করে বন্ধ করে দেয়া ভালো। বন্ধ রাখলে ভেতরে দুর্গন্ধ বা ফাঙ্গাস এড়াতে দরজা সামান্য খোলা রাখতে পারেন। চাইলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দিন, এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং অপ্রত্যাশিত ঝুঁকিও কমবে।
৫. পানির লাইন ও ট্যাপ বন্ধ করুন
বাসা ছাড়ার আগে সব ট্যাপ ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না যাচাই করে নিন। কোনো লিকেজ বা ফোঁটা পড়ছে কি না তাও দেখে নেয়া জরুরি। সম্ভব হলে মেইন পানির লাইন বন্ধ করে দিন—এতে পাইপ ফেটে যাওয়া, পানি জমে ক্ষতি হওয়া বা অপ্রত্যাশিত লিকেজের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
৬. মূল্যবান জিনিস নিরাপদে রাখুন
গয়না, টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সব এক জায়গায় গুছিয়ে লকার বা নিরাপদ স্থানে রাখুন। অত্যন্ত জরুরি কাগজ যেমন জন্মনিবন্ধন, জাহাজপত্র, ব্যাংক ডকুমেন্ট আলাদা ও নিরাপদ স্থানে রাখুন। বিশ্বাসযোগ্য কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীকে বিষয়টি জানিয়ে রাখা নিরাপত্তার জন্য ভালো—যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তারা এগিয়ে আসতে পারে।
৭. প্রতিবেশী বা নিরাপত্তাকর্মীকে জানিয়ে যান
আপনি বাসায় থাকবেন না এমনটা অবশ্যই পাশের ফ্ল্যাটের কোনো বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা নিরাপত্তাকর্মীকে জানিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে তারা মাঝেমধ্যে বাসায় এসে খোঁজ নিতে পারবেন, যা চুরি বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক।
অতিরিক্ত কিছু টিপস:
১. বাসা ছাড়ার আগে সব ময়লা ফেলে দিন, যাতে দুর্গন্ধ বা অপ্রিয় গন্ধ না হয়।
২. রাতে টাইমার লাইট ব্যবহার করলে বাসা ফাঁকা মনে হবে না, চুরি প্রতিরোধে কার্যকর।
৩. পোষা প্রাণী সঙ্গে না নিলে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যান, যাতে খাবার ও যত্নের কোনো সমস্যা না হয়।
৪. ঘরের গাছপালায় পানি দেয়ার ব্যবস্থা রাখুন বা প্রতিবেশীকে দায়িত্ব দিন, যাতে তারা শুকিয়ে না যায়।
৫. দরজা–জানালা, লক, গ্যাস ও পানির নিরাপত্তা শেষবার যাচাই করে বের হোন।
৬. সম্ভব হলে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা মোশন সেন্সর লাইট ব্যবহার করুন, যা বাড়িতে না থাকলেও নজরদারি নিশ্চিত করবে।
ঈদের আনন্দ তখনই পুরোপুরি উপভোগ করা যায়, যখন মনে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। বের হওয়ার আগে এই ছোট প্রস্তুতিগুলোই আপনাকে নিশ্চিন্তে রাখবে। ফিরে এসে যেন শুধু স্মৃতি আর আনন্দই পান, ঝামেলা নয়।
