স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর কক্সবাজার সৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা থেকে ছয় শতাধিক স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সকালে অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। আনা হয় বুলডোজার। শুরু হয় আবারও মাইকিং। এরপরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরাতে শুরু করেন। বিকেল ৩টার দিকে সব স্থাপনা সরানো সম্ভব হয়।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা থেকে ছয় শতাধিক স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বেই তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) তাদের জানানো হয়েছিল, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তবে দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সকালে তারা আরও কিছু সময় চেয়ে আবেদন করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের অতিরিক্ত কিছু সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সেই সময়ের মধ্যেই তারা তাদের দোকানপাট সরিয়ে নেন।
তিনি বলেন, সৈকতে এভাবেই উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে সৈকতের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার সৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে নিদের্শনা দেন।
নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া সৈকতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় তারা সরে গেছেন। মন্ত্রী নিশ্চয়ই তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করবেন।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী নজির আহমদ বলেন, ১৬ বছর ধরে এই পয়েন্টে পর্যটকদের কাছে বার্মিজ পণ্য বিক্রি করে ১১ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেছেন। এখন মন্ত্রীর সুদৃষ্টির অপেক্ষায়।
শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু এর কষ্ট ও বেদনা আমাদের বুকে থেকেই যাচ্ছে। ঈদের ব্যবসার আশায় আমরা অনেকেই ঋণ করে দোকানে পণ্য তুলেছিলাম। এখন উচ্ছেদের কারণে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকার মতো ক্ষতির মুখে পড়েছি।
বার্মিজ পণ্যের দোকানদার নুরুল বশর বলেন, রমজানজুড়ে আমরা ঈদের বিক্রির আশায় দোকানে মালামাল তুলেছিলাম। এখন সেই পণ্য নিয়েই আমরা বিপাকে পড়েছি, সামনে কীভাবে চলব, সেটাও বুঝতে পারছি না।
