বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

কাঙ্খিত স্বপ্ন

জুবায়ের আহমেদ ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

পুকুর পাড়ে আনমনে বসে আছি। হঠাৎ একজন কাঁধে হাত রেখে পাশে বসলেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে চিনতে পারিনি ঠিক, তবে চেনা চেনা মনে হচ্ছে। কোথায় যেনো দেখেছি, মনে করতে পারছি না। আমি কিছু একটা বলতে যাবো, তার আগেই তিনি বলতে লাগলেন-

মামা, তুমি আমাকে চিনছো? আমি তোমার….

এবার ওনাকে আমিই থামিয়ে দিয়ে বলতি থাকি, আমি আপনাকে চিনেছি মামা। আপনি আশরাফ নানার বাবা। আমাদের শৈশবে বার্ধক্যের আপনাকে পেয়েছিলাম। আপনার নামটা তখনো জানতাম না। কারন নানার বাবার নাম জানার প্রয়োজন হয় না, তিনি অমুক নানার বাবা, সেই সূত্রে আমার মামা। এটাই যথেষ্ট ছিলো শৈশবে।

কত বছর হয়ে গেলো আপনাকে দেখি না, সে প্রায় ২০ বছর হবে। আপনি তো আল্লাহর জিম্মায় চলে গেছেন, তবুও আপনি আমার কাছে এসেছেন, এতো বছর পরে। জানেন মামা, আপনি আমার নানার বাড়ীর পার্শ্ববর্তী বাড়ীর মানুষ হলেও আপনাকে আমি চিনতাম, আপনার পাশে বসতাম। আপনার হুক্কা খাওয়া দেখতাম। আপনিও চিনতেন আমাকে রেহানার ছেলে হিসেবে। আপনিও আমার আনন্দঘন শৈশবের অংশ ছিলেন। কিন্তু কষ্টের কথা কি জানেন মামা, আপনার উত্তরসূরীরা আমাদের চিনে না। আমরা যেভাবে শৈশবে আশে পাশের সব বাড়ীতে যাতায়াত করতাম, খেতাম, খেলতাম, মুরুব্বীদের সাথে কথা বলতাম, মুরব্বীদের সঙ্গী হতাম। এখন আর সেসব নেই। এখন ছেলে-মেয়েরা মোবাইলবন্ধী। নিজ ব্যস্ততা এবং স্বার্থের দ্বন্ধে পাশের বাড়ীর মানুষের সাথেও এখন সুসম্পর্ক থাকে না অনেকের।

আমার কথা শুনে মামা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বলতে লাগলেন, দূরের মানুষ হয়েও এতোটা বছর পর তুমি আমাকে চিনেছ, মনে রেখেছ, এটাই তো আমার সৌভাগ্য। এখন সময় নেই, তুমিও যখন আমার সঙ্গী হবে, তবে জমিয়ে আড্ডা দেব, আমার শৈশবের গল্প তোমাকে শুনাবো।

মামা চলে যেতেই আমার ঘুম ভাঙ্গলো। স্বপ্ন দেখেছি, বুঝতে পারলাম। এ স্বপ্ন আমার কাঙ্খিত ছিলো, আনন্দের ছিলো। শৈশবে যাদের বার্ধক্য দেখেছি, তারা এবং তাদের জীবন ভাবনা, চিন্তা চেতনা আমার কাছে কিছু।

 

 

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...