পুরো বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকে দাপটের সঙ্গে সেমিফাইনালে পা রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ইডেন গার্ডেনসের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিধ্বংসী ক্রিকেটের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল প্রোটিয়াদের অপরাজেয় তকমা। নিউজিল্যান্ডের ওপেনারদের রেকর্ড গড়া ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কিউইরা।
ফিন অ্যালেনের অতিমানবীয় সেঞ্চুরি
১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই কিউই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। পাওয়ার প্লে-তেই তারা স্কোরবোর্ডে তোলেন ৮৪ রান। সেইফার্ট ৩৩ বলে ৫৮ রান করে বিদায় নিলেও ফিন অ্যালেন ছিলেন অদম্য। মাত্র ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। তার ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার ইনিংসে ভর করে মাত্র ১২.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ও ব্যাটিং বিপর্যয়
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। অফ স্পিনার কোল ম্যাককনচি দ্বিতীয় ওভারেই কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনকে ফিরিয়ে দিলে ব্যাকফুটে চলে যায় তারা। এইডেন মারক্রাম (১৮) ও ডেভিড মিলার (৬) বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। দলের বিপদে হাল ধরেন ডওয়াইন ব্রেভিস (৩৪) এবং পরে ট্রিস্টান স্টাবস (২৯) ও মার্কো ইয়ানসেন।
শেষদিকে মার্কো ইয়ানসেনের ৩০ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ১৬৯ রানের লড়াই করার মতো পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউজিল্যান্ডের হয়ে রাচিন রবীন্দ্র, ম্যাট হেনরি এবং কোল ম্যাককনচি প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড:
- দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬৯/৮ (২০ ওভার); ইয়ানসেন ৫৫*, ব্রেভিস ৩৪; ম্যাককনচি ২/১৫, রাচিন ২/১১।
- নিউজিল্যান্ড: ১৭২/১ (১২.৫ ওভার); ফিন অ্যালেন ১০০*, সেইফার্ট ৫৮; রাবাদা ১/৩৭।
- ফল: নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী।
