রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আলী আসগার হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ লেখায় তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিরোধ এবং সাম্প্রতিক পারিবারিক ট্র্যাজেডির কথা তুলে ধরেছেন।
ড. আলী আসগার জানান, ১৯৯৭ সালে তিনি জাপানে পিএইচডি করতে যান। সে সময় তার বাবা অসুস্থ হয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। জাপানে অবস্থানকালে প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে তিনি নিয়মিত অর্থ পাঠিয়ে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ, ছোট তিন ভাইবোনের পড়াশোনা ও বিয়ের খরচ বহন করেন।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাসিক ছয় হাজার টাকা সম্মানী পেতেন। ওই অর্থ হলের রক্ষণাবেক্ষণ ও দরিদ্র কর্মচারীদের সহায়তায় ব্যয় করেছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া নিজের সঞ্চয় থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নে বই প্রদানের জন্য ব্যয় করেন।
ড. আলী আসগার আরও জানান, রাজশাহী শহরে তার মায়ের নামে থাকা একটি বাড়ির ছাদ লিখে পাওয়ার পর অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেখানে ফ্ল্যাট নির্মাণ করেন। ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে তার মাসিক বেতনের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে তার ছেলে সাদমান সাদিক ইউকির দাঁত তোলার পর তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। পরে চিকিৎসকেরা সাইনুসাইটিস ও নাকে সিস্ট শনাক্ত করেন। রাজশাহীতে অস্ত্রোপচারের পর জটিলতা দেখা দিলে তাকে চিকিৎসার জন্য চারবার ভারতে নিতে হয়। সেখানে দুইবার অপারেশন করা হয়, যার মধ্যে দ্বিতীয়টি সফল হয়। এই চিকিৎসা ব্যয়ে তার সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
ড. আলী আসগার দাবি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের মেয়েসহ কয়েকজনের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং মামলায় জয়লাভ করেন। তবে আদালতের রায় কার্যকর না করে পরবর্তীতে বিষয়টি আপিল বিভাগে নেওয়া হয়, যা তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করেন।
ড. আলী আসগার জানান, গত বছর তার হৃদযন্ত্রে ব্লক ও পাম্পিং ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টি চিকিৎসা পরীক্ষায় ধরা পড়ে। একই সময়ে তার ছেলে ইউকির শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। আর্থিক সংকটের কারণে যথাসময়ে চিকিৎসা করাতে না পারায় তার ছেলে সাদমান সাদিক ইউকি (২৩), যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর ছাত্র ছিলেন, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে মারা যান।
তিনি অভিযোগ করেন, অসুস্থতার কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করলেও তিনি কোনো সহায়তা পাননি। অথচ একই সময়ে অন্য এক অসুস্থ শিক্ষকের জন্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে নিজেও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না বলে জানান ড. আলী আসগার। মানবিক কারণে সহায়তার জন্য তিনি সবার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
সহায়তা পাঠানোর তথ্য:
নাম: Dr Md Ali Asgar
ব্যাংক: BRAC Bank
অ্যাকাউন্ট নম্বর: 5501104886692001
রাউটিং নম্বর: 060811934
শাখা: রাজশাহী
মোবাইল ও বিকাশ: ০১৩১১০৫৭৬৭৮
