বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

জব্বার ডাকাতের বিশাল হৃদয়

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন

জুবায়ের আহমেদ

বিশাল এলাকা জুড়ে মাত্র কয়েকটি বাড়ী নিয়ে গঠিত শ্যাম নগরের নামকরা কুখ্যাত ডাকাত কদম আলী। পূর্ব পুরুষদের মধ্যে কেউ চোর ডাকাত না থাকলেও ছোট বেলায় মা হারানো কদম আলীর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর ছোট্ট কদম আলী নিজ পরিবারে থেকেও আগাছার মতো বড় হয়েছে, বাবা নতুন সংসার ও সেই সংসারে জন্ম নেওয়া ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মেতে থেকে কদম আলীর ঠিকমতো দায়িত্ব পালন ও আদর-যত্ম করেননি। মায়ের মৃত্যুর কয়েক বৎসরের মধ্যেই বাবাকেও হারিয়েছেন কদম। পিতা মাতার আদর বঞ্চিত হয়ে বড় হওয়া কদম আলী এলাকার দুষ্ট চক্রের সাথে মিশে চুরি বিদ্যায় নাম লিখিয়ে আজ শ্যাম নগরের কুখ্যাত ডাকাত। নিজস্ব বাহিনী তৈরী করে দূর দূরান্তের সম্পদশালী ব্যক্তিদের বাড়ীতে দলবলে হানা দিয়ে নগদ অর্থ আর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে আনতেন, কেউ বাধা দিলে তাকে মেরে ফেলতেও এতোটুকু বুক কাঁপতো না কদম আলীর। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় বহু মানুষকে মুহুর্তেই মেরে ফেলেছে কদম আলী।

এলাকার লোকজন কদম আলীর সব অপকর্মের কথা জানলেও ভয়েও কিছু বলতো না। ডাকাতীর শিকার হওয়া ভুক্তভুগিরাও প্রাণভয়ে থানা পুলিশ করেনি কখনো, আর সরাসরি ডাকাতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করাও সম্ভব হতো না। ডাকাতি করা নিয়ে কদম আলীর অনুশোচনা না থাকলেও একমাত্র পুত্র সন্তান জব্বার আলীকে ডাকাত বানাতে চায় না কদম। ছেলেকে অন্য আট দশজনের মতো সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য ডাকাতি কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখে এবং এলাকা থেকে অনেক দূরের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় লেখাপড়া করার জন্য। কিন্তু জব্বার আলীর পড়ালেখায় মন বসে না। বাবার সাথে কোনদিন ডাকাতি করতে না গেলেও দলবল নিয়ে কদম আরী ডাকাতির পূর্বে বাড়ীতে কিভাবে কি করবে সেই প্রস্তুতিমূলক কথাবার্তাগুলো ঘরের আড়াল থেকে উঁকি ঝুকি দিয়ে শুনেই ডাকাতির কলা কৌশল সব শিখে ফেলে জব্বার। ক্লাস ফোর পর্যন্ত স্কুলে গেলেও একদিন কদম আলীকে বলেই বসে, “আব্বা আমি আর পড়মু না, আপনার লগে ডাকাতি করতে যামু”। ছেলের কথা শুনে আশ্চার্যান্বিত হয় কদম। ছেলেরে নিজের মতো ডাকাত বানাতে চায় না। কদম আলী, জব্বারকে ধমক দিয়ে পড়ালেখা করার কথা বললেও ছোট্ট জব্বার জানিয়ে দেয় আর পড়বে না। বাধ্য হয়ে কদম আলী বাড়ীর পাশেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির একটি দোকান দিয়ে দোকানে বসিয়ে দেয় জব্বার আলীকে। অবশ্য আশে পাশে তেমন ঘরবাড়ী না থাকায় বেঁচাবিক্রি আশানুরুপ হবে না জেনেও শুধুমাত্র ছেলেকে ডাকাতি থেকে দূরে রাখতেই দোকান করে দেয় কদম আলী। এলাকার মানুষ অবাক, কদম আলী কি ডাকাতি ছেড়ে দিলো নাকি, ভাবতে থাকে তারা।

জব্বার আলী দিন দিন বড় হতে থাকে। বাবা কদম আলী অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে যাওয়ায় কদম আলীর দলবল নিয়ে ডাকাতি করতে যায় জব্বার। কদম আলীর শিস্যরা প্রথমে জব্বারকে নিতে রাজী না হলেও জব্বারের পিড়াপিড়িতে রাজী হয়। কদম আলীর প্রধান শিস্য রহিম মিয়া ভাবে “ডাকাতের পোলা ডাকাতই অইবো, এত ভাবার কি আছে”, আর ডাকাতি না করলে খামু কি আমরা, ডাকাতি ছাড়া তো আর কিছুই শিখি নাই জীবনে।

কদম আলীর অজান্তেই তার মতো বড় ডাকাতে পরিণত হয় জব্বার আলী। তবে অল্প বিস্তর লেখাপড়া করা জব্বার আলীর মানুষ মারতে হাত কাঁপে, “নর হত্যা মহা পাপ” এটা মনে রাখে জব্বার, তাই ডাকাতির সময় কেউ বাধা দিলেও কাউকে কখনো আঘাত করেনি জব্বার। ছেলের ডাকাতি বিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার কথা জেনে আর কিছুই বলার থাকে না কদম আলীর। বয়সের ভারে মৃত্যুর কাছে হার মানে কদম আলী। এদিকে জব্বার আলী বাবার করে দেওয়া দোকানে নিয়মিত বসলেও ডাকাতি করছে নিয়মিতই।

এলাকার লোকজন রাস্তাঘাটে জব্বার আলীকে দেখলে ভয়ে সালাম দেয় ঠিকই। তবে পেছনে সমালোচনায় মেতে উঠে। জব্বার আলীর সাথে খুব বেশি মানুষ মিশতেও চায় না। এসব বুঝতে পারে জব্বার আলী। ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়ে ভালো মন্দ অনেক কিছুই শিখেছে জব্বার, ডাকাতি করা কত বড় অপরাধের কাজ এবং এই ডাকাতির ফলে কত মানুষ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে, কত মানুষের জীবন বাবা কদম আলী কেড়ে নিয়েছে এসব ভাবে জব্বার, আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

দূর দূরান্তে গিয়ে ডাকাতি করলেও জব্বার আলীর ডাকাতির খবর এলাকার সবাই জানে। এই ডাকাতির কারনে বিয়ে করার মতো কোন মেয়েও পায়নি জব্বার। জোর করে কাউকে বিয়ে করে সংসারি হবে, এমন ভাবনা আসলেও এমন কাজও করেনি জব্বার। তাই বয়স চল্লিশের উপরে হলেও এখনো একাই আছে জব্বার আলী।

শ্যাম নগরের অধিকাংশ লোকজন অশিক্ষিত-মূর্খ, যাদের অধিকাংশেরই পেশা দিনমুজুরী, কেউ কেউ পৈত্রিক সম্পত্তিতে কৃষি কাজ করে। সময়ের বিবর্তনে দিন দিন মানুষ শিক্ষামুখী হচ্ছে। মানুষজন সচেতন হওয়ার জব্বার আলীর ডাকাতি কর্মকান্ডের প্রতি মানুষের ঘৃণাও বাড়তে থাকে। এসব বুঝে জব্বার আলী, সেই সাথে একাতিত্বও বেশ ভোগাচ্ছে তাকে। জব্বার আলী বাবার একমাত্র পুত্র হওয়ায় এবং বাবা কদম আলী তার সৎ ভাইবোনদের থেকে আলাদা হয়ে বসবাস করায় জব্বার আলীকেও একা বিশাল বাড়ীতে বসবাস করতে হয়, ডাকাতির সঙ্গী সাথীরাও আজকাল কেমন যেনো হয়ে গেছে, কাজের জন্য ডাকলে আসতে চায় না, কেউ কেউ জানায়, ডাকাতি ছেড়ে ভালো হতে চায় তারা, জব্বার আলীও বাধা দেয় না, সে নিজেই ছাড়তে চায় ডাকাতি, সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। বাকি জীবনটা মানুষের সাথে মিলে মিশে থাকতে চায়।

জব্বার আলীর পার্শ্ববর্তী বাড়ীর বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া। দিনমুজুরী করেই তার সংসার চলে। হঠাৎ কুদ্দুসের বাড়ীতে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে কুদ্দুসের বাড়ীতে যায় জব্বার। গিয়ে শুনে কুদ্দুসের ছেলের কি যেনো এক রোগ হয়েছে, গ্রামের ডাক্তার ঔষধ দিয়েছে, তাতে রোগ সাড়ছে না, উল্টো দিন দিন আরো বেশি অসুস্থ হয়ে গেছে। শহরের ডাক্তারও দেখিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন ছেলে সুস্থ হবে, তবে চিকিৎসার জন্য বিশ হাজার টাকা লাগবে। কুদ্দুস মিয়া দিন মুজুরী করে সংসার চালায়, ভিটে বাড়ী ছাড়া আর কিছুই নেই। ডাক্তারকে পরে জানাবে বলে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বাড়ী চলে এসেছে। কুদ্দুস মিয়া এলাকার সবার হাতে পায়ে ধরেও টাকা পয়সার ব্যবস্থা করতে পারেনি। চিকিৎসার অভাবে ছেলেটা মরতে বসেছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের ঘৃণিত কর্মের কারনে বিবেকের দংশনে পোড়া জব্বার আলী কিছু করতে চায় কুদ্দুসের ছেলের জন্য। সবার সামনেই বলে “কুদ্দুস মিয়া, আমি তোমার পোলার চিকিৎসার সব টেহা দিমু, তুমি শহরে যাওয়ার প্রস্তুতি লও”।

জব্বার আলীর প্রস্তাবে অবাক হয় কুদ্দুস মিয়া ও অন্যরা। কুদ্দুস মিয়া ভাবতে থাকে, সারা জীবন ডাকাতি কইরা মানুষজনরে নিঃস্ব করা জব্বার ডাকাত আমার পোলার চিকিৎসায় টেহা দিবো, আমি কি সত্যিই হুনতাছি”। এসব ভাবার পরও কুদ্দুস মিয়া উত্তর দেয় “ডাকাতির টেহা দিয়া আমি আমার পোলারে চিকিৎসা করামু না, আমার পোলা মইরা গেলেও না”। উপস্থিত অন্যরাও সুর মেলায় কুদ্দুস আলীর সাথে। জব্বার আলী উত্তেজিত হয় এবং বলে “শোন মিয়ারা, আমি ডাকাইত হইতে পারি, ডাকাতি কইরা টেহা পইসা করতে পারি, কিন্তু এই শিশু পোলাডা কোন দোষ করে নাই, এরে যেমনেই হোক বাঁচাইতে অইব, আর কোন কথা কইও না কুদ্দুস, শহরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুলি লও”।

কুদ্দুস মিয়াও আর বাড়াবাড়ি করে না, একমাত্র ছেলেকে চিকিৎসা করিয়ে বাঁচানোর একটা উপায় আল্লাহ বের করে দিয়েছে, এতে অনেক খুশি কুদ্দুস মিয়া। জব্বার আলীও টাকা পয়সা সাথে নিয়ে কুদ্দুসের সাথে শহরে যায়, কুদ্দুসের ছেলের চিকিৎসা করিয়ে একসাথে গ্রামে ফিরে। সুচিকিৎসা হওয়ায় খুব দ্রুতই সুস্থ হয় কুদ্দসের ছেলে।

যে জব্বার আলী কিংবা তার বাবার সাথেও এলাকার মানুষরা বেশি মিশতো না, কথাবার্তা বলতে চাইতো না, আজ সেসব মানুষরাই জব্বার আলীর এমন মহৎ কাজে মুগ্ধ হয়। মানুষের প্রশংসা এবং ভালো ভালো সব কথা শুনে নিজেকে নতুন ভাবে আবিস্কার করে জব্বার। ভাবতে থাকে “ছোট থাইকা এতো বড় হইলাম, এলাকার মানুষ শুধু ঘৃণার চোখেই তাকাইছে, কিন্তু আজ সেই সকল মানুষই আমারে কত ভালো কইতেছে”।

জব্বার আলী চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, আর কখনো ডাকাতি করবে না। বাবার কালে এবং নিজে সহ ডাকাতি করে যত সম্পদ গড়ছে সব মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবে। বাজারে গিয়ে লোকজনের সামনেই জব্বার আলী ঘোষণা দেয় “আমাদের শ্যাম নগরে কোন ইস্কুল নাই, পোলা-মাইয়াদের লেহাপড়ার লাইগা আমি একটা ইস্কুল করমু, তোমরা আমারে সহযোগিতা করতে অইবো”। জব্বার আলীর ঘোষণায় সবাই খুশি হয়। জব্বার আলীর অর্থায়নে একটি স্কুল নির্মাণ করা হয় এবং অন্য এলাকা থেকে শিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর জন্য। শুধু স্কুলই প্রতিষ্ঠাই নয়, এলাকার মানুষের যেকোন বিপদে আপদে পাশে থাকার ঘোষণা দেয় জব্বার আলী এবং নিজের ছোট্ট দোকানটি বড় করে দোকানেই ব্যবসা করে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায়।

শ্যাম নগরের লোকজনও এখন জব্বার আলীর প্রতি বেশ আন্তরিক। পঁয়তাল্লিশ বৎসর চলা জব্বার আলীরে তারা এবার বিয়ে করাতে চায়। এদিকে শ্যামনগরের রশিদ মিয়ার মেয়ে জমিলা এক বৎসর স্বামীর সংসার করলেও জমিলাকে ছেড়ে দিয়ে আরেক বিয়ে করে ফেলে। গ্রামের মানুষও ঠিক করে জব্বার আলীর সাথে জমিলার বিয়ে দেবে। জব্বার আলীর তরফ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে খুশি মনেই গ্রহণ করে জমিলা ও তার বাবা রশিদ মিয়া। মহা ধুমধামে বিয়ে করে জব্বার আলী।

ডাকাতি জীবন নিয়ে অনুশোচনায় ভূগা জব্বার আলী বিয়ের পরই সিদ্ধান্ত নেয় দাদার রেখে যাওয়া সহায় সম্পত্তি ছাড়া বাবা ও নিজের ডাকাতির মাধ্যমে অর্জিত সব সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবে এবং যেসব বাড়ীগুলোতে ডাকাতি করেছে সুযোগ হলে সেসব বাড়ীর বাসিন্দাদের সব ফিরিয়ে দেবে। জব্বার আলীর সিদ্ধান্তে খুশি হয় গ্রামবাসী। জব্বার আলীও নিজের কলংকিত ডাকাত পরিচয়কে পেছনে ফেলে আট দশজন সাধারণ মানুষের মতো করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।

জব্বারকে বাবা হওয়ার সুসংবাদ দেয় জমিলা। খুশিতে আত্মহারা হয় জব্বার। ডাকাতির পরিচয়ের কারনে বিয়ে করতে না পারা জব্বার উত্তরাধিকার না থাকায় নিজের পরিচয় মুছে যাবার ভয়ে চিন্তিত ছিলেন। অবশেষে বিয়ের পর সন্তান হওয়ার সংবাদ পেয়ে আরো সাহসী সিদ্ধান্ত নেয় জব্বার। অনাগত সন্তানের গায়ে কিছুতেই ডাকাতির কলংক লাগতে দেবে না। বাবা ও নিজের হাতে ডাকাতি করা সব সম্পদ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ডাকাতি করা বাড়ীর মালিকদের ফিরিয়ে দেবে। আত্মসমর্পণ করলে জেলে যেতে হবে জেনেও সিদ্ধান্তে অটটু থাকে জব্বার।

জব্বারের সিদ্ধান্তে জমিলা ও গ্রামবাসী খুশি হলেও জব্বার জেলে চলে গেলে ছাড়া পাবে কিনা এই ভেবে ভেঙ্গে পরে সকলে। সবাইকে আশ্বন্ত করে জব্বার। নিজের পাপের পায়শ্চিত করতে গিয়ে কোন মায়ায় জড়িয়ে পিছপা হতে চায় না সে।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। জব্বার এলাকার লোক সমেত ডাকাতি করা সব সম্পদ স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। জব্বারের কান্ড দেখে অবাক হয় থানার বড় বাবু। এমনও হয় নাকি আজকাল! এলাকার লোকজন জব্বারের হয়ে সাফাই গায়। বড় বাবু সকলকে আশ্বস্ত করে, জব্বারকে আইনের মুখোমুখি করা ছাড়া ছেড়ে দেয়া সম্ভব নয় বলে জানায়।

জব্বারের কথা মতো ডাকাতির সম্পদ ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আদালতের মাধ্যমে আসল মালিকদের বরাবরে ফেরত দেয় পুলিশ। ডাকাতি হওয়ার এতো বছর পর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই ডাকাতের স্বইচ্ছায় সব ফেরত পাওয়ার ঘটনায় আশ্চর্যান্বিত হয় সকলে। এমনও হয় নাকি, ঘোর কাটেনা তাদের।

আদালত জব্বার আলীর আত্মসমর্পণ ও ডাকাতি করা সম্পদ ফেরত দেয়ার ঘটনায় বিস্মিত হয়। জানতে চায় কেনো হঠাৎ কেনো জব্বারের এমন উপলব্ধি হলো। জব্বার জানায়, আমি নিজেরে একা ভাবতে শুরু করি মাননীয় আদালত, ডাকাতি করার কারনে কেউ আমার পাশে থাহে নাই। কেউ আমারে দেখতে পারতো না, সামনে ভয়ে সালাম দিলেও পেছনে আমার ঘৃণ্য কাজের সমালোচনা করতো। এসব আমারে ভাবনায় ফেলে দেয়।

নিজের অনুভূতি এবং ভবিষ্যত ভাবনা প্রকাশ করে আদালতের সামনে। আদালতের কৃপা পেলে মানবতার সেবায় বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায় বলে জানায় জব্বার। আদালত জব্বারকে জেলে পাঠায় এবং স্বপ্রনোদিত হয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জব্বারের মামলার বিস্তারিত জানান।

এলাকাবাসী এবং স্বয়ং জব্বারের দ্বারা ডাকাতির শিকার হওয়া সকলে আদালতের কাছে জব্বারকে একটি সুযোগ দেয়ার আর্জি জানায়। যে মানুষ ডাকাতির মতো জঘন্য কান্ডে নিয়োজিত থেকেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য এতোসব করতে পেরেছে, সে ভবিষ্যতে আর পূর্বের মতো কাজ করবে না এ বিশ্বাস তৈরী হয় সকলের মাঝে।

সরকারের উদ্ধর্তন মহল, এলাকাবাসী এবং ডাকাতির শিকার হওয়া সকলের সুপারিশ বিবেচনা শেষে দ্রুত মামলা নিস্পত্তি শেষে জব্বারকে মাত্র ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আদালতের মহানুভবতায় খুশি হয় সকলে।

জব্বারের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী জমিলার পাশে থাকে এলাকাবাসী। নিয়মি জমিলার যত্ন নেয় মহিলারা। ভাগ্যক্রমে জব্বারের সাজা শেষ হওয়ার দিনেই জমিলা একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। জেল থেকে বের হয়ে বাড়ী ফিরেই আনন্দের সংবাদ পায় জব্বার। নবজাতক কন্যাকে কোলে নিয়ে নিজের মাকে কল্পনা করে জব্বার, এ জেনো মহান আল্লাহ তায়ালা সন্তানরুপে জব্বারের মাকেই তার ঘরে পাঠিয়েছে।

ধুমধাম করে সন্তানের আকিকা অনুষ্ঠান করে জব্বার। বাবার হাতে গড়া দোকান বড় করে এখানে ব্যবসা করেই বাকি জীবনটা কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখে জব্বার।

বাবার কথা মনে করে জব্বার, বাবা জব্বারকে লেখাপড়া করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিজেই বাবার অজান্তে ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। লেখাপড়া করা সহ বাবার করা দোকানে নিয়মিত বসলে ডাকাতির মতো ঘৃনিত কাজে জড়াতে হতো না জব্বারের।

সমাপ্ত

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...