জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার একটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা ছাত্রদল।
রোববার (৫ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে আগে পাঁচ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ছিল। সম্প্রতি সেটিকে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া হয়।
মিডিয়াতে তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আগে জমা দেওয়া বায়োডাটায় রেদোয়ান ইসলাম নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে কমিটি ঘোষণার পর জানা যায়, তিনি জেন্ডার পরিবর্তন করেছেন। এ তথ্য গোপন করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বহিষ্কৃত রেদোয়ান ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দক্ষতার ভিত্তিতেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ খাতে কাজ করছেন। রেদোয়ানের নারী পরিচিয়ে পরিচালিত ফেসবুক রিহিয়া রিহি এর পোস্টে তিনি বলেন, “আমি ট্রান্সজেন্ডার নই। আমি একজন সম্পূর্ণ ছেলে এবং একজন সংস্কৃতিকর্মী। আমার কিছু কনটেন্টের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আমি দুঃখিত। ইতোমধ্যে সেসব কনটেন্ট সরিয়ে নিয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবো।” তিনি আরও অনুরোধ জানান, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করতে, কারণ এতে একজন ব্যক্তির সম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে।
রেদোয়ান নিজেকে পুরুষ দাবি করলেও তার কণ্ঠস্বর ও নারী পরিচয়ের অভিনয়ে বোঝার উপায় নেই রেদোয়ান ইসলাম পুরুষ নাকি নারী। এজন্য ট্রান্স হিসেবেই অনেকে ধারণা ও বিশ্বাস করেছে বলে এ নিউজের কমেন্টে দেখা যাচ্ছে।
