বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Logo
×

ধানক্ষেতে পড়েছিল তাজমিনের মরদেহ, হত্যায় একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ

Icon প্রথম সমাচার ডেস্ক

পুলিশ সুপার জানান, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা মোটিভ অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান পুলিশ সুপার।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে তাজমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যশোরের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায় তার বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িতে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তার মা কেয়া খাতুন। সাংবাদিকেরা স্বজনদের ছবি তুলতে গেলে ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘কী হবে এসব ছবি তুলে! আমার কলিজার পাখিটা যখন চলে গেছে; এখন আর কিছু বলব না।’

মেয়ের বান্ধবীকে নিয়ে অভিযোগ তুলে কেয়া খাতুন জানান, ‘আমার মেয়ের বান্ধবীটা অত্যন্ত খারাপ ছিল। সে ফুঁসলিয়ে আমার মেয়েকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। মেয়েকে বাঁচাতে অনেক বাধা দিয়েছি, অনেক চেষ্টা করেছি; এমনকি এ কারণে ছয় মাস তাকে স্কুলেও যেতে দিইনি। ঘরে আটকে রেখেছিলাম; কিন্তু শেষপর্যন্ত ওই বান্ধবীই তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে গেল। কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসার পরও আর বাসায় পৌঁছতে পারল না আমার মেয়ে। হায়েনার দল তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে ফোনে বলেছিলাম-তুই কোথায় আছিস বল, আমি নিজে এসে তোকে বাড়ি নিয়ে যাব। আজ আমার কলিজার ধনটাকে হারিয়ে ফেললাম, এখন আমি তাকে ছাড়া কিভাবে বাঁচব!

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম কুমিল্লা শহরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে তিনি শোকে স্তব্ধ। তিনি জানান, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানিয়েছিল।

আবদুল আলীম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে মেয়ের কাছ থেকে একটি খুদে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পান। বার্তায় তাকে এসে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। তখন ঘুমিয়ে থাকায় তিনি বার্তাটি দেখতে পারেননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে বার্তাটি দেখেন। পরে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে মেয়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানান তিনি।

আরও খবর লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক কপি হয়েছে!

« বিস্তারিত কমেন্টে »
prothomsomachar.com