বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

নতুন ফ্যাসিবাদ রুখে দেওয়া হবে: জামায়াত আমির

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম। পরবর্তীতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, অযোগ্য লোকদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার কারণে আমরা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারিনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। দুর্নীতি শুধু টাকা-পয়সার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়াও দুর্নীতি।

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, এডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা একটি জাতির কত বড় সম্পদ এটি স্বাধীন জাতি বুঝে, না পরাধীন জাতি। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন নেতৃবৃন্দের দূরদর্শীতায় আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। স্বাধীনতার আগে একটি সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। ঐ নির্বাচনও সংবিধান মেনে হয়নি, কারণ সামরিক জারি হলে সংবিধান স্থগিত থাকে। ঐ সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী মেনে নিতে পারেনি, যার ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ মুক্তির সংগ্রামে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে আমরা একটি স্বাধীন ভূখন্ড, একটি মানচিত্র ও লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সরকার কখনো বলছে জনগণের রায় অক্ষরে-অক্ষরে পালন করবে, আবার কখনো বলে জনগণ না বুঝে গণভোটে রায় দিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ হ্যাঁ ভোট দিলেও সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেভাবে স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেইভাবে বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে সমাধান হবে। তিনি আরও বলেন, যারা ৭২ সালের সংবিধানের জন্য মায়াকান্না করে, তাদের জানা উচিত—শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধান সংশোধন করেছেন, জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন করেছেন, বেগম খালেদা জিয়াও সংবিধান সংশোধন করেছেন, এবং বেগম জিয়া বলেছেন, যেদিন জনগণের সরকার কায়েম হবে, সেদিন নতুন করে সংবিধান লেখা হবে।

উদারতা দেখিয়ে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদারতা দেখিয়ে জাতীয় সমস্যা সমাধানে এক জায়গায় বসুন। এটা সংসদের ভিতরে হবে না, কারণ সংসদের ভিতরে সব দল প্রবেশ করেনি। এ দেশে অন্যান্য দলগুলোরও অবদান আছে দেশের জন্য। মুক্তিযুদ্ধে এবং চব্বিশের বিপ্লবেও তাদের অবদান আছে। তাদের সবাইকে নিয়ে বসে কথা শুনুন, পরামর্শগুলো শুনুন। ডিসিশন তো আপনারাই নেবেন। তাই কে কি বলতে চায়, কথাগুলো শুনলে জাতি উপকৃত হবে, আপনারাও উপকৃত হবেন।

সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি জ্বালানি সংকট সরকারের একক নয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সরকারকে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা বলেছেন দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। যদি সংকটই না থাকে, তবে তেলের পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে কেন- প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই বলেই জ্বালানি সংকটের পরও রাজপথে নেমে আসিনি। তাই সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে জাতীয় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...