বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে নারীসমাজের অসামান্য ত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস রয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও দেশের নারীরা ঘরে-বাইরে প্রতিনিয়ত বৈষম্য, সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তবতাকে পরিবর্তন করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ‘জাতীয় নারীশক্তি’ নামে একটি নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আজ রবিবার (৮ মার্চ) জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপি (NCP) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন সংগঠনের ঘোষণা প্রদান করে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, সেই লড়াইয়ে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। নারীদের কেবল সহায়ক শক্তি নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের অগ্রণী কারিগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করবে এই সংগঠন। এই লক্ষ্যে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সারাদেশের নারীদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন পথচলা শুরু করতে একটি প্রাথমিক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক, মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্যসচিব এবং নুসরাত তাবাসসুমকে মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী এই কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
