ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারে ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডো বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের বরাতে জানা গেছে যে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে এই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
তবে এই অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের হামলায় কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটল।
শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর থেকেই দুই ক্রুকে নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়। বিধ্বস্ত বিমানের দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
নিখোঁজ এই ক্রুকে খুঁজে বের করতে শুক্রবার রাতে দুটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান নিয়ে বড় ধরনের তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় মিলিশিয়াদের হালকা অস্ত্রের গুলিতে মার্কিন হেলিকপ্টার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টার ধোঁয়া উড়ন্ত অবস্থায় কোনোমতে ইরাক সীমান্তে ফিরে নিরাপদ অবতরণে সক্ষম হয়।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে যে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় মিলিশিয়ারা ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। এমনকি তাকে আটকের জন্য ৬০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।
একই রাতে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ওই বিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ এফ-১৫ পাইলটকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খবর টেলিগ্রাফ/পিএস
