নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ৯ বছরের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ চার কিশোরসহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শিশুটির মা তাকে খাবার খেতে দিয়ে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়ের নিথর দেহ ঝুলছে। শিশুটির শরীর তখন বস্ত্রহীন অবস্থায় ছিল। মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন,”প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করার পর আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতেই ৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে চারজনের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং বাকি দুজনের বয়স ২২ বছর।
নিহত শিশুটির বাবা একজন অটোরিকশা চালক। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিল এই শিশুটি। সন্তান হারিয়ে নির্বাক মা শুধু বিচার চেয়েছেন। তিনি জানান, ছাগল আনতে যাওয়ার সময় ঘরের পাশে স্থানীয় তিন যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন, ফিরে এসে তাদের আর দেখতে পাননি। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসি’র দাবি জানিয়েছেন তিনি।
