মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তেজনার মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে সামরিক হামলা বন্ধ রাখবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি ‘ডাবল-সাইডেড’—অর্থাৎ দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে না।
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে। একইসঙ্গে ইরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে বলে জানা গেছে। ইরান প্রায় ১০টি শর্তে সাময়িক যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে।
এই সমঝোতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দেয় তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি থাকবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আহ্বানের পর দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে যান ট্রাম্প। এর আগে, মঙ্গলাবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যেতে পারে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।’ এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আজ রাতে ইরানের বিভিন্ন শহরে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চতুর্পাশে ইরানি জনগণকে মানব ঢালের মতো পাহারা দিতে দেখা যাচ্ছে। নারী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, শিশু দল-মত, ধর্ম-গোত্র ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে তারা ইরানের জন্য জীবন দিতে যে প্রস্তুত তার জানান দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের উপর হামলার সম্ভ্রাব্য বিষয় নিয়ে জাতিসংঘ থেকে আন্তর্জাতিক মহল ও স্বয়ং আমেরিকা পর্যন্ত ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা শুরু করছে।
এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ ও হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার সঙ্গে সম্মত।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি হবে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের শর্ত অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে শুধুমাত্র ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে পুনরায় খোলার বিষয়ে সম্মত হলে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে তেলের দামে তাৎক্ষণিক পতন হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহল বলছে, এই দুই সপ্তাহের সময়কে কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স, ও গার্ডিয়ান।
