গত রবিবারের ম্যাচে বলের আকৃতি বা অবস্থা পরিবর্তনের দায়ে ফখর জামানের বিরুদ্ধে ‘লেভেল-৩’ পর্যায়ের অপরাধের অভিযোগ এনেছে পিসিবি (PCB)। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার এই অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন এক থেকে সর্বোচ্চ দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামা আগামী দুই দিনের মধ্যে এই বিষয়ে শুনানি করবেন। তবে ফখর জামান তার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মাঠে যা ঘটেছিল
করাচি কিংসের রান তাড়া করার একদম শেষ ওভারের শুরুতে এই নাটকীয়তার সূত্রপাত হয়। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও ফখর জামানের হাতের বদল হয়ে বলটি যখন হ্যারিস রউফের কাছে যায়, তখন অন-ফিল্ড আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি সেটি পরীক্ষার জন্য কেড়ে নেন।
-
আম্পায়াররা দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেন যে বলটির অবস্থা পরিবর্তন (টেম্পারিং) করা হয়েছে।
-
তৎক্ষণাৎ বলটি বদলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
-
শাস্তিস্বরূপ করাচি কিংসকে ৫ পেনাল্টি রান উপহার দেওয়া হয়।
পিসিবি-র নিয়ম কী বলছে?
পিএসএল কন্ডিশনের ধারা ৪১.৩ অনুযায়ী আম্পায়াররা যেকোনো সময় বল পরীক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন।
-
ধারা ৪১.৩.৫.১: আম্পায়াররা যদি মনে করেন বলের অবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হয়েছে, তবে ব্যাটিং দল (এক্ষেত্রে খুশদিল শাহ ও আজম খান) পছন্দমতো একটি বদলি বল বেছে নিতে পারবে।
-
ধারা ৪১.৩.৫.৩: যদি বল নষ্ট করার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে শনাক্ত করা যায়, তবে ব্যাটিং দলকে অতিরিক্ত ৫ রান বোনাস দেওয়া হবে।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ৫ রান
লাহোরের অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি ম্যাচ শেষে এই পেনাল্টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কেন এই রান দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট ছিলেন না।
এই ৫ রানই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। শেষ ৬ বলে করাচির জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৪ রান, কিন্তু পেনাল্টির কারণে সমীকরণ নেমে আসে মাত্র ৯ রানে। আব্বাস আফ্রিদি হ্যারিস রউফকে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে মাত্র দুই বলেই ম্যাচটি করাচির পকেটে পুরে নেন।
হাসান আলীর জরিমানা
অন্যদিকে, করাচি কিংসের পেসার হাসান আলীও শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে পারেননি। ১৯তম ওভারে হাসিবুল্লাহর উইকেট নেওয়ার পর উগ্র উদযাপনের কারণে তাকে ম্যাচ ফির ১০% জরিমানা করা হয়েছে। এটিকে ‘লেভেল-১’ পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা ব্যাটারের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ বা উস্কানি দেওয়ার শামিল।
সারসংক্ষেপ: লাহোর কালান্দার্সের জন্য এই ম্যাচটি দ্বিমুখী ধাক্কা হয়ে এলো—একদিকে নাটকীয় হার, অন্যদিকে তাদের প্রধান ব্যাটার ফখর জামানের আসন্ন নিষেধাজ্ঞা। এখন সবার নজর রোশান মহানামার শুনানির দিকে।
