সরকারি সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাছির, যিনি সাংবাদিক মহলে বাছির জামাল নামে পরিচিত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৪-এর ধারা ১০(২) অনুযায়ী তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে এক বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা জীবনে বাছির জামাল মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টিং থেকে শুরু করে সংগঠনভিত্তিক সাংবাদিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সিনিয়র সহকারী মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার চিফ রিপোর্টার হিসেবেও কর্মরত আছেন।
গণমাধ্যম অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সংগঠন পরিচালনায় সম্পৃক্ততা এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার এই নিয়োগকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ট্রাস্টের প্রধান কাজ হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসুস্থ, দুর্ঘটনায় আহত বা বিপদগ্রস্ত সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা প্রদান করা। চিকিৎসা ব্যয় সহায়তা, এককালীন আর্থিক অনুদান এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সাংবাদিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে কাজ করে।
তবে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক সাংবাদিক এখনো ট্রাস্টের সুবিধা সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন বা সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখে পড়েন। ফলে ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও সহজলভ্য করা এখন সময়ের দাবি।
এর আগে ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে বাছির জামাল তার স্থলাভিষিক্ত হলেন।
সাংবাদিক সমাজের অনেকের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার হবে।
