বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি আরও কঠোর করছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ‘প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক’ হিসেবে সাপ ও কুমির ব্যবহারের একটি ধারণাও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তের যেসব অংশ নদী ও জলাভূমি দিয়ে গঠিত—যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়—সেসব এলাকায় বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে বিএসএফ। প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার জলাভূমি হওয়ায় সেখানে নজরদারি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘ডিটারেন্স-ফার্স্ট’ বা ভীতি-নির্ভর নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে এমন ধারণা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তবায়ন হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ড্রোন, সেন্সর ও ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় বিএসএফের একটি অভিযানে প্রায় ১ কোটি রুপির স্বর্ণসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই এলাকায় চোরাচালান ঠেকাতে গিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে, যেখানে দেশীয় অস্ত্র, ফেনসিডিল ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিকল্প কৌশল নিয়ে ভাবছে ভারত, যার মধ্যে সাপ ও কুমির ব্যবহারের ধারণাটিও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
