সম্প্রতি এক জনসভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হওয়া ক্রিকেটার প্রথমে বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিল।
ও-ই সময় এমপি হয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসান। কার কথা বললেন রিজভী?
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রিভজী বলেন— “আজ আমি আপনাদের সামনে একটি বিশেষ বিষয়ে কথা বলতে চাই। আপনারা অনেকেই জানেন, আমাদের দেশের একজন অত্যন্ত খ্যাতিমান ক্রিকেটার (২০১৮ নির্বাচনের পূর্বে) আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি এবং আমাদের নারী নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী একসাথে বসেছিলেন। সেই ক্রিকেটার আমাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি স্পোর্টসম্যান হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে চান।
আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম এই ভেবে যে, তার মতো একজন মেধাবী তরুণ আমাদের দলে আসতে চায়। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছিলাম এবং স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম, তিনি অন্য একটি রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আমার কাছে মনে হয়েছে, তার ওপর কোনো বিশেষ চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তাকে নানাভাবে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। একজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে তার যে পরিচয় ও প্রতিভা, সেটিকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতায় ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি কাম্য নয়।
আপনারা আজ দেখুন, আমিনুল হকের কথা। তিনি আমাদের দেশের একজন বরেণ্য ফুটবলার ছিলেন। তিনি যখন জাতীয় দলে খেলেছেন, তখন কোনো বর্ণবৈষম্য বা রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পায়নি। আজ তিনি বিএনপির একজন দক্ষ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু খেলাধুলার ক্ষেত্রে তিনি এখনো সেই দল-মত নির্বিশেষে মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে বিশ্বাস করেন।
আমি আপনাদের একটি কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন আগামীতে সরকার গঠিত হবে, তখন স্পোর্টস, কালচার, গান বা যেকোনো সৃজনশীল ক্ষেত্রে “কে আমার লোক” আর “কে অন্য পক্ষের লোক” এই বৈষম্য থাকবে না।
একজন ক্রিকেটার, ফুটবলার বা অ্যাথলেট যদি এই জাতির সন্তান হয়ে থাকেন এবং তার মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন, তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন—তিনি যথাযথ সম্মান ও স্থান পাবেন। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক রঙ দিয়ে কাউকে তার প্রাপ্য অবস্থান থেকে সরানো হবে না। ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করব।”
