সরকারি ব্যয় কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে একাধিক কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা স্থগিত রাখা।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির জন্য নির্ধারিত জ্বালানি বরাদ্দ থেকে ৩০ শতাংশ কম গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা আপাতত বন্ধ থাকবে।
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো, সেমিনার ও সম্মেলন ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস এবং সরকারি ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো।
এর আগে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, উপসচিব বা তার ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনার সুযোগ পেতেন। এছাড়া গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য মাসিক ভাতাও দেওয়া হতো।
সরকারের নতুন এই পদক্ষেপকে চলমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং জ্বালানি ব্যবহারে সংযম আনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
