বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার অভিযোগ যেসব সতীসাবিত্রী নারীরা আনেন, তাদের কাছে আমার দুইটা প্রশ্ন—
প্রথমত, একটা বিবেকবুদ্ধি সম্পূর্ণ ম্যাচিউরড মানুষকে কেউ প্রলোভিত করে কীভাবে? আপনার কি কান্ডজ্ঞান নেই? ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা নেই? বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিয়ের আগেই সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস হারাবেন কেন?
যে ছেলেটা বিয়ের আগেই থেকেই বাটপার, লুইচ্চা, স্টুপিড, তার থেকে বিয়ের পরে ভালো কিছু আশা করবেন কীভাবে? এইটুকু বোঝার ক্ষমতা নিশ্চয়ই বিধাতা নারীদেরকে দিয়েছেন!
বরং কেউ কিছু একটা অফার করল, নয়তো প্রলোভন করল বা টোপ ফেলল—আপনি সেই টোপ গিলতে যাবেন মানে আপনিও সমান লোভী!
আপনার সেলফ কন্ট্রোল, সেলফ রেসপেক্ট বলে আর কোনো কিছু বাকি রইল না। নাকি পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা বলে পুরুষদের শাসিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করেছেন?
আজকাল অনেকে তো মিথ্যা মামলাও দেয়! সেটা নাহয় নাই বললাম!
এই যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হলো, তাতে আপনার কোনো অ্যাক্টিভিজম নেইই? নাকি আপনি জীবন্ত লাশ? মানে মজাটা আপনিও নিলেন, আর মাঝখানে দোষটা শুধু ছেলেকে দিয়ে দিলেন! বিষয়টা একচেটিয়া হয়ে গেল না?
যদি আপনি ভেবে থাকেন—নারী বলে যে সবসময় সিম্প্যাথি নিতে হবে! অবলা সাজতে হবে সমাজের কাছে! দুর্বল সাজতে হবে! সমান তালে অন্যায় করেও ভিক্টিম সাজার অ্যাক্টিং করতে হবে!
নাকি আপনি করলে অবলা নারী, ভাই করলেই রেইপ?
তবে আপনার মন ও মগজ লেইম এক্সকিউজ দিয়ে ভরা! এসব থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে আপনি ডাবল অপরাধী! একে অন্যায় করলেন—দুই, মিথ্যা বললেন!
ব্যাপারটা ভীষণ আনফেয়ার! এটা নিয়ে অনেকদিন লিখব লিখব করেও লেখা হলো না।
সেই সমস্ত আপুরা, একটা কথা মনে রাখবেন প্লিজ—
উপরে একজন আছেন, তিনি। তিনি সৎ পথে পরিচালিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভালো-মন্দ সবকিছু করার বিষয়টা ছেড়ে দেন আপনার উপর। কিন্তু তিনি ছাড় দেন না!
আপনি যতক্ষণ সৎ থাকতে চাইবেন, ততক্ষণ আপনার রবই আপনাকে সৎ ও পবিত্র রাখবেন! আপনি যদি রিজার্ভ থাকেন, নিজের সম্মান নিজের কাছেই থাকবে! সেই সম্মানকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব রবই নিয়ে নেবেন!
আর তা ছাড়া, একটা মেয়ে নিজ ইচ্ছায় না চাইলে পৃথিবীর কোনো পুরুষের সাধ্য নেই তাকে জোর করার! আমার তো মনে হয়—আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা শুরুটা করে!
অফারটাও তাদের দিক থেকেই যায় প্রথমে। আপনার আচার-আচরণ, ড্রেসআপ, গেটআপের মাধ্যমে আপনি ইনডিরেক্টলি কাউকে নেগেটিভলি ইনস্পায়ার্ড করবেন, আহ্বান জানাবেন কাছে আসার!
তারপর কাছে আসলে লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ারলি “নো মিন্স নো” বলবেন না! তার মানে আপনার কুসুম কুসুম মতামত আছে এই কাজে!
আর মনে রাখবেন, ছেলেরা একবার যখন কুসুম কুসুম পারমিশন আপনার পেয়ে যাবে, তারপর আর কিছু পরোয়া করবে না!
ছোটবেলায় আমার মা বলত—পুরুষ মানুষ হলো আগুন, আর নারীরা দিয়াশলাই!
আগুন লাগার সুযোগটা তৈরি হয় একসাথেই! তা না হলে তো একটার অনুপস্থিতিতে আগুন লাগার সুযোগ নেই!
এখানে ভিন্নতা আছে শুধু রেইপের ক্ষেত্রে! আমি মোটেও সেটা নিয়ে কথা বলছি না। আমি আধুনিকতার কঠোর স্তর ভেদ করে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া এবং পরে একপক্ষের উপর দায় চাপানো কতিপয় লোকের কথা বলছি!
তবে আমাদের আধুনিক সমাজে আজকাল যেসব পাপাচারকাণ্ড হচ্ছে, সেগুলোর পরে মেয়েদের দিক থেকে রেইপের এক্সকিউজ আসে!
আরে বোন, জেনে-শুনে বিষ পান করে বিষ বিক্রেতাকে দোষ দিয়ে লাভ আছে?
তার মানে এই না যে আমি বলছি ছেলেটা নিষ্পাপ, তার কোনো দোষ নেই! মোটেও তা বলছি না। বরং পাপাচার করলে উভয়েই সমান অপরাধী। ইসলামে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে।
এই আধুনিক রেইপগুলো আসলে দুই পক্ষের সহমতে হয়!
কাজেই সমাজের এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, সামাজিক অবক্ষয় এবং এই অধপতনের শেষ স্তরে পদার্পণের জন্য আপনি দায়ী কিনা, নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন।
সবশেষে আমাদের নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্য রবের কাছে সাহায্য চাই! এক পৃথিবী মূল্যের কাছেও যেন নিজেদের সম্মানটুকু বিক্রি না হয়ে যায়!
জান্নাতুন নাঈম
লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট
ই-মেইল: jannatprome1@gmail
