মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ রচিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক নতুন মহাকাব্য। যে মিরপুর সাধারণত স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত, সেখানেই আজ গতির আগুন ঝরালেন তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করে তিনি কেবল ম্যাচই জেতাননি, বরং বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের আভিজাত্যকে নিয়ে গেছেন এক নতুন উচ্চতায়।
৫ উইকেট ক্লাবে ১০ম পেসার
বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে ১০ম পেসার হিসেবে ৫ উইকেট শিকারের অভিজাত ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন নাহিদ রানা। ২০০৩ সালে মাশরাফি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক হাসান মাহমুদদের উত্তরসূরি হিসেবে নাহিদ আজ প্রমাণ করলেন—হোম কন্ডিশনেও বাংলাদেশ এখন গতির বিশ্বেও সমান দাপুটে।
রেকর্ড ভাঙা বোলিং ফিগার
নাহিদের আজকের এই ৫ উইকেট শিকারের পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে ৫ম সেরা বোলিং ফিগার। তবে একটি জায়গায় তিনি অনন্য—টাইগার বোলারদের মধ্যে যারা ৫ উইকেট নিয়েছেন, তাদের মধ্যে রানের হিসেবে নাহিদের ২৪ রানই সবচেয়ে মিতব্যয়ী। এর আগে সেরা বোলিং ফিগারগুলো ছিল মূলত ৬ উইকেট শিকারিদের দখলে।
এক নজরে বাংলাদেশের শীর্ষ ৫ বোলিং ফিগার:
- মাশরাফি বিন মোর্তুজা: ২৬/৬ (বনাম কেনিয়া, ২০০৬)
- রুবেল হোসেন: ২৬/৬ (বনাম নিউজিল্যান্ড, ২০১৩)
- রিশাদ হোসেন: ৩৫/৬ (বনাম নিউজিল্যান্ড, ২০২৪)
- মুস্তাফিজুর রহমান: ৪৩/৬ (বনাম ভারত, ২০১৫)
- নাহিদ রানা: ২৪/৫ (বনাম আফগানিস্তান, ২০২৬)
৫ ওভারেই লণ্ডভণ্ড প্রতিপক্ষ
এক সময় রুবেল হোসেন মাত্র ৫.৫ ওভারের বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। আজ নাহিদ রানা যেন সেই বিধ্বংসী রূপেরই পুনরাবৃত্তি করলেন মিরপুরের সবুজ ঘাসে। নিজের স্পেলের প্রথম ৫ ওভারের মধ্যেই তিনি তুলে নেন ৫টি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৭ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার ছিল স্রেফ ‘আনপ্লেয়েবল’।
পেস ঐতিহ্যের নতুন নাম
আফতাব আহমেদ ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ৫ উইকেট নিয়ে যে যাত্রার শুরু করেছিলেন, নাহিদ রানা আজ তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন। মাশরাফি, তাসকিন, মুস্তাফিজ কিংবা হাসান মাহমুদদের কাতারে নাম লেখানো নাহিদ এখন বাংলাদেশের পেস ব্যাটারির নতুন সেনসেশন।
”নাহিদ রানার ২৪ রানে ৫ উইকেট কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি মিরপুরের উইকেটে বাংলাদেশের আগামীর এক পেস-বিপ্লবের ঘোষণা।”
