জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এটি একটি ‘ম্যানেজ ভোট’ ছিল এবং প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
একটি অনলাইন আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রচারণা চালানোর সময় তিনি জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। তার মতে, প্রকৃত অর্থে তাদের পরাজয় হয়নি; বরং কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল ভিন্ন দিকে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ ডা. শফিকুর রহমান-কেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিল।
নির্বাচনকে ‘ম্যানেজ ভোট’ বললেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো আন্দোলনে না যাওয়ার ব্যাখ্যায় রাশেদ প্রধান বলেন, দেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হঠাৎ কোনো কঠোর আন্দোলন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারত এবং এতে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের ঝুঁকি ছিল। তিনি জানান, বিরোধী দল হিসেবে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখাই তাদের লক্ষ্য ছিল।
জোট রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোট মানে পারস্পরিক সমতা ও সম্মান। কোনো একটি দল অন্যদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে—এমনটি গ্রহণযোগ্য নয়। নিজেকে স্বাধীনচেতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি তিনি খোলামেলাভাবে করেন।
একসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলেও বর্তমানে জাগপা আলাদা অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এখনও সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। তার অভিযোগ, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সুবিধাবাদীরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফের সক্রিয় হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিএনপির নীতিগত অবস্থানের কারণেই এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, জিয়াউর রহমান-এর সময়কার রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকেও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
