রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে সংকটের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এক ও দুই লিটারের বোতল খুঁজে পাচ্ছেন না অনেক ক্রেতা। তবে সরকার বলছে, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
সোমবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাঁচ লিটারের বোতল কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও ছোট বোতলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম। অনেক ক্রেতাকে কয়েকটি দোকান ঘুরেও এক বা দুই লিটারের সয়াবিন তেল কিনতে দেখা যায়নি। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে বড় বোতল কিনে নিচ্ছেন।
বিক্রেতাদের দাবি, কয়েকদিন ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে। তারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে আগের মতো পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আগে যেখানে ২০–২৫ কার্টন তেল চাইলেও পাওয়া যেত, এখন সেখানে অনেক কম সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাজারে সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর একটি বাজারের মুদি দোকানি বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে এখন বোতলের গায়ে নির্ধারিত মূল্যের কাছাকাছি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। এতে খুচরা বিক্রেতাদের লাভের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। আগে পাঁচ লিটারের বোতলে প্রায় ১০ টাকা লাভ থাকলেও এখন তা কমে পাঁচ টাকার মতো হয়েছে।
ক্রেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। রাজধানীর এক বাসিন্দা জানান, দুই লিটারের তেল কিনতে গিয়ে তিনি কয়েকটি দোকানে ঘুরেও পাননি। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে হয়েছে।
এদিকে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিনে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজারে প্রকৃত কোনো সংকট নেই। এ বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। তার মতে, কিছু ভোক্তা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে রাখায় কিছু এলাকায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাজারে কোথাও কোথাও সীমিত মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে কি না তা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার তদারকি জোরদার করবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি লিটার তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৯৫ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা।
ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও দাবি করেছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের মতে, বাজারে যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে তা মূলত সাময়িক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়েছে।
