লেবাননের পূর্বাঞ্চলের বেকা ভ্যালিতে সম্প্রতি এক অস্বাভাবিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। রাতের অন্ধকারে পরিচালিত এই অভিযানে তারা একটি কবরস্থান খুঁড়ে নির্দিষ্ট এক ব্যক্তির দেহাবশেষ উদ্ধারের চেষ্টা চালায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযানটি ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষক ও গবেষক মোজাম্মেল হোসেন ত্বহা এক বিশ্লেষণে জানান, গত দেড় বছর ধরে লেবাননে ইসরায়েলের বেশির ভাগ সামরিক অভিযান দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তারা সেই নীতির ব্যতিক্রম ঘটিয়ে লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা ভ্যালিতে অভিযান চালায়, যা বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
তার মতে, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে কয়েক দশক পুরোনো একটি ঘটনা। ১৯৮৬ সালে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন-এর একটি ঘাঁটিতে হামলার সময় বেকা ভ্যালি এলাকায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। সেই ঘটনায় ইসরায়েলি পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নেভিগেটর কর্মকর্তা রন আরাদ শিয়া মিলিশিয়া সংগঠন আমাল আন্দোলন-এর হাতে আটক হন। পরবর্তীতে বন্দী অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ইসরায়েলের বিশ্বাস, তাকে বেকা ভ্যালির কোনো কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।
ত্বহার বিশ্লেষণে বলা হয়, সম্প্রতি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ লেবাননে একটি গোপন অভিযান চালিয়ে আহমেদ শোকর নামে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অপহরণ করে। ধারণা করা হয়, তার পরিবারের একজন সদস্য একসময় রন আরাদের বন্দিত্বের সময় দায়িত্বে ছিলেন। সেই সূত্রেই ইসরায়েল রনের সম্ভাব্য কবরস্থানের তথ্য পায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করে ইসরায়েলি বাহিনী। কয়েকটি হেলিকপ্টারে করে তারা বেকা ভ্যালির নবী শিথ গ্রামে প্রবেশ করে এবং স্থানীয় একটি কবরস্থানে কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে।
তবে অভিযানের সময় স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। হেজবুল্লাহ-র যোদ্ধারা সেখানে গুলি চালায়। পরে লেবাননের সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে তীব্র গোলাগুলি চলে।
সংঘর্ষের সময় নিজেদের সৈন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি বাহিনী আশপাশের এলাকায় বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৪১ জন লেবানিজ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী এলাকা থেকে সরে গেলেও রন আরাদের দেহাবশেষ উদ্ধার করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছে। তবে অভিযানে ইসরায়েলের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এই পুরো ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
(বিশ্লেষণটি লেখক ও গবেষক মোজাম্মেল হোসেন ত্বহার লেখা থেকে সংকলিত।)
