আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রানের পাহাড়ে চড়েও স্বস্তিতে ছিল না রাজস্থান রয়্যালস। জয়ের জন্য শেষ ওভার পর্যন্ত লড়তে হয়েছে তাদের। তবে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ধ্রুব জুরেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত গুজরাট টাইটান্সকে ৬ রানে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়ান পরাগের দল।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। দুই ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ও বৈভব সূর্যবংশী শুরু থেকেই চড়াও হন গুজরাটের বোলারদের ওপর। পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারেই তারা স্কোরবোর্ডে জমা করেন ৬৯ রান। ১৮ বলে ৩১ রান করে সূর্যবংশী বিদায় নিলেও জয়সওয়াল তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি (৫৫ রান)।
তবে ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন তিন নম্বরে নামা ধ্রুব জুরেল। ৪২ বলে ৭৫ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। যদিও সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়, তবে তার ব্যাটে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১০ রানের বিশাল পুঁজি পায় রাজস্থান। গুজরাটের পক্ষে কাগিসো রাবাদা ২টি উইকেট শিকার করেন।
সুদর্শনের লড়াই ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা
২১১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পায় গুজরাট টাইটান্সও। উদ্বোধনী জুটিতে কুমার কুশাগ্র ও সাই সুদর্শন ৭৮ রান যোগ করেন। কুশাগ্র ১৮ রানে ফিরলেও সুদর্শন একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন। ৪৪ বলে ৭৩ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে তিনি যখন বিদায় নেন, গুজরাট তখন জয়ের পথেই ছিল।
কিন্তু এরপরই নামে ধস। রাজস্থান স্পিনার রবি বিষ্ণোইয়ের ঘূর্ণিতে চোখে সর্ষে ফুল দেখেন গুজরাটের ব্যাটাররা। গ্লেন ফিলিপস (৩), ওয়াশিংটন সুন্দর (৪) ও রাহুল তিওয়াতিয়া (১২) দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। জস বাটলারও ১৪ বলে ২৬ রানের বেশি করতে পারেননি।
রশিদ-রাবাদার চেষ্টা ও দেশপান্ডের বাজিমাত
শেষ দিকে অষ্টম উইকেটে রশিদ খান ও কাগিসো রাবাদা ৩০ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য গুজরাটের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। কিন্তু বোলিংয়ে এসে চমক দেখান আকাশ দেশপান্ডে। তার দুর্দান্ত লাইন ও লেংথের সামনে রশিদ-রাবাদা জুটি মাত্র ৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। ফলে ২০৪ রানেই থেমে যায় গুজরাটের ইনিংস।
সংক্ষেপে স্কোরকার্ড:
-
রাজস্থান রয়্যালস: ২১০/৬ (২০ ওভার); ধ্রুব জুরেল ৭৫, যশস্বী জয়সওয়াল ৫৫। রাবাদা ২/৩৮।
-
গুজরাট টাইটান্স: ২০৪/৮ (২০ ওভার); সাই সুদর্শন ৭৩, জস বাটলার ২৬। রবি বিষ্ণোই ১/৩০।
-
ফলাফল: রাজস্থান রয়্যালস ৬ রানে জয়ী।
