বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

সংবিধান মেনে কখনো বিদ্রোহ হয় না: কর্ণেল অলি আহমেদ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, “আমি যখন দেশ স্বাধীন করার জন্য বিদ্রোহ করেছি, তখন সংবিধান মেনে বিদ্রোহ করিনি। কারণ সংবিধান মেনে কখনো বিদ্রোহ হয় না।” তিনি বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, এডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।

কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, “সুশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় এবং রাষ্ট্র কর্তৃক সর্বস্তরের বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরও আজও বাংলাদেশে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বৈষম্যের বেড়াজাল বিদ্যমান।” তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনার পিতা পুরো পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন স্বাধীনতা ঘোষণা করে, আপনার মা প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। আপনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ হয়ে যান। এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।”

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতা পাইনি। মানুষ স্বাধীনতার জন্য আজও লড়াই করছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যুদ্ধ করেছি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে কেউ যুদ্ধপরাধী নয়। যাদের বয়স ৫০ বছর, তারা কিভাবে যুদ্ধপরাধী বা মানবতাবিরোধী হয়—এ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যুদ্ধপরাধী নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং অপপ্রচার চালানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদেরকে যুদ্ধপরাধী মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিচারের নামে অবিচার করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দকে বিচারিক হত্যা করা হয়েছে। যারা কেউ যুদ্ধপরাধী ছিল না।”

লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের। কিন্তু তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে পালিয়ে গেছেন। শুধু শেখ মুজিবুর রহমানই পালিয়ে যাননি, তখন তাজউদ্দিন আহমেদ সহ শীর্ষ নেতারা পালিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগের কোনো স্তরের নেতাকর্মী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি; তারা ভারতে পালিয়ে ছিল। স্বাধীনতার পরে তারা ভারতের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসে শাসন ক্ষমতা দখল করে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু করে। যারা আজ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় না, তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। জনগণ যখন বিপ্লবের স্বাদ ও স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, তখন কোনো সরকারই জনগণের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে টিকে থাকতে পারে না। আরেকবার যদি বিপ্লব হয়, তবে জনগণ এই সংবিধান বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলে, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন সংবিধান লিখবে।”

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...