সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে শাস্তির পরিধি বাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। রোববার সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
বিলটি পাসের সময় বিরোধী দল ভোটদানে বিরত থাকে এবং কোনো ধরনের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই তা অনুমোদন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট।
নতুন আইনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য শৃঙ্খলাবিরোধী চার ধরনের আচরণকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অনানুগত্যমূলক কার্যকলাপে জড়ানো, অন্য কর্মচারীদের মধ্যে অনানুগত্য বা শৃঙ্খলাভঙ্গ সৃষ্টি করা, ছুটি ছাড়া বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকা, অন্যদের কাজে অনুপস্থিত থাকতে বা দায়িত্বে অবহেলা করতে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্ম সম্পাদনে বাধা সৃষ্টি করা।
এ ধরনের অপরাধের জন্য তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে—বরখাস্ত, অব্যাহতি এবং পদ ও বেতন গ্রেড অবনমন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি পরবর্তীতে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের মে ও জুলাই মাসে সংশোধনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।
বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনপ্রশাসন মন্ত্রী জানান, নতুন আইন কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও সুসংহত হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।
