বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×
স্বাস্থ্যকর ইফতার

সুন্নাহর আলোকে স্বাস্থ্যকর ইফতার: পুষ্টি, পরিমিতি ও সচেতনতার বার্তা

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাস। সারাদিন সিয়াম পালনের পর ইফতার শুধু ক্ষুধা নিবারণের সময় নয়; এটি শারীরিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার এবং আধ্যাত্মিক তৃপ্তিরও মুহূর্ত। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই সুস্থ রোজার পূর্বশর্ত।

সুন্নাহভিত্তিক ইফতার

হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন; খেজুর না পেলে পানি পান করতেন (সুনান আবু দাউদ)। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি, আঁশ ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর দ্রুত শক্তি জোগায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে, সারাদিন উপবাসের পর হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে বাড়ে।

কেন ভাজাপোড়া ঝুঁকিপূর্ণ?

পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল, বদহজম ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ উচ্চচর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে পরে তা হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে, যা দুর্বলতা ও ক্লান্তি তৈরি করে।

সুষম ইফতারের উপাদান

বিশেষজ্ঞরা ইফতারে তিন ধাপের পরামর্শ দেন—
প্রথমে খেজুর ও পানি বা লেবু-পানি;
তারপর হালকা স্যুপ বা ফল;
এরপর পরিমিত মূল খাবার।

একটি স্বাস্থ্যকর ইফতার তালিকায় থাকতে পারে—খেজুর, মৌসুমি ফল, ছোলা বা ডাল, সবজি, অল্প পরিমাণ ভাত বা রুটি এবং পর্যাপ্ত পানি। প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম, মাছ বা মুরগির মাংস সীমিত পরিমাণে রাখা যেতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিন পায়।

পানির গুরুত্ব

রোজায় পানিশূন্যতা একটি বড় সমস্যা। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে কয়েকবারে পানি পান করাই উত্তম। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা, কারণ এগুলো শরীর থেকে পানি বের করে দিতে পারে।

পরিমিতিই মূল বার্তা

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না” (সূরা আল-আরাফ ৭:৩১)। অর্থাৎ রমজানের শিক্ষা কেবল না খেয়ে থাকা নয়; বরং সংযম ও ভারসাম্য রক্ষা করা। অতিরিক্ত ভোজন রোজার আত্মিক লক্ষ্যকেও ব্যাহত করতে পারে।

রমজানে স্বাস্থ্যকর ইফতার মানে শুধু ডায়েট নয়; এটি সুন্নাহ অনুসরণ, শরীরের যত্ন এবং সংযমের চর্চা। খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করে পরিমিত, সুষম ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে রোজা হবে প্রশান্তিময় ও সুস্থতার বার্তা বহনকারী। ধর্মীয় নির্দেশনা ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের সমন্বয়ই হতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত রমজানের মূল চাবিকাঠি।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...