বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

হাম: কারণ, করণীয় ও অতীত

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

🦠 লক্ষণ ও সংক্রমণ চিত্র

 

Image

Imageঅত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ Measles (হাম) আবারও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। একেকজন রোগী সহজেই বহু মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন।


🔍 কেন হয় হাম

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো—

  • সময়মতো টিকা না নেওয়া, বিশেষ করে MMR vaccine না দেওয়া
  • অপুষ্টি ও ভিটামিন-এ এর অভাব
  • ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা

⚠️ লক্ষণ

হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়া দেখা যায়। পরে মুখের ভেতরে সাদা দাগ এবং শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়।


📜 ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

Image

Image

Image

Image

 

Image

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ৯ম শতকে পারস্যের চিকিৎসক Al-Razi প্রথম হাম রোগের বিস্তারিত বিবরণ দেন। টিকা আবিষ্কারের আগে এটি ছিল শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ১৯৬০-এর দশকে টিকা চালুর পর বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।


🌍 বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে অনেক দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। World Health Organization (WHO) সতর্ক করে জানিয়েছে, টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হলে আবারও প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশেও টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলেও কিছু এলাকায় কভারেজ কম থাকায় sporadic সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।


🛡️ করণীয়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম প্রতিরোধে কয়েকটি পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন—

  • শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা প্রদান
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা
  • পুষ্টিকর খাদ্য ও ভিটামিন-এ নিশ্চিত করা
  • ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা
  • লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া

⚠️ জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।


🧾 উপসংহার

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...