২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপ। এই আসরের অন্যতম ভেন্যু লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম (SoFi Stadium)। সম্প্রতি এই স্টেডিয়ামের প্রায় ২,০০০ খাদ্য পরিষেবা কর্মী তাদের দাবি আদায়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন ‘ইউনাইট হেয়ার লোকাল ১১’ (Unite Here Local 11) ফিফা ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে এই চরমপত্র দিয়েছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের ধর্মঘট এড়াতে কয়েকটি বিশেষ শর্তারোপ করেছে:
-
অভিবাসন নীতি ও সুরক্ষা: ইউনিয়নের দাবি, মার্কিন অভিবাসন সংস্থা (ICE) এবং বর্ডার পেট্রোল যেন বিশ্বকাপের কার্যক্রমে কোনো হস্তক্ষেপ বা ভূমিকা না রাখে। তারা অভিবাসী শ্রমিক পরিবারগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
-
চাকরি ও অটোমেশন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা আধুনিক অটোমেশনের কারণে ভবিষ্যতে যেন কোনো শ্রমিকের চাকরি না যায় বা কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়, তার গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে।
-
সাশ্রয়ী আবাসন: লস অ্যাঞ্জেলেসে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাড়ির অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি মাথায় রেখে আতিথেয়তা খাতের শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
-
ন্যায্য পাওনা: ফিফা এবং কর্পোরেট পার্টনাররা বিশ্বকাপ থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করলেও যারা মাঠ পর্যায়ে রান্না বা পরিবেশনের কাজ করে, তাদের আর্থিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
-
ফিফা ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ: স্টেডিয়ামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ক্রোয়েনকে স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট’ এবং ফিফা এখন পর্যন্ত এই ধর্মঘটের হুমকির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
-
সরকারি অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় আইসিই (ICE) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি ইউনিয়নের দাবির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
সোফি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
-
প্রথম ম্যাচ: ১২ জুন, ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে)।
-
যদি ২,০০০ কর্মী একসঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেন, তবে স্টেডিয়ামের খাদ্য সরবরাহ ও আতিথেয়তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আয়োজক দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা ইভেন্ট সফল করতে শ্রমিকদের এই দাবিগুলো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফা এবং স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ দ্রুত কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে আগামী জুন মাসে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
