উত্তর কোরিয়ার ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে কিম জং উন প্রায় নিখুঁত বিজয় অর্জন করেছেন। সরকারি মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এবং তার জোটসঙ্গী মোট ভোটের ৯৯.৯৩ শতাংশ পেয়েছেন এবং পার্লামেন্টের সব আসনই জিতেছে। এবার নির্বাচনে কিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রভাবশালী বোন কিম যো-জংসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভোটের উপস্থিতি ছিল প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ। মার্চ ১৫-এ এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি-এর ডেপুটি নির্বাচনের জন্য। খবর এনডিটিভি
নির্বাচনের ফলাফলের পরে, পিয়ংইয়ং নতুন অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশন করবে, যেখানে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সংবিধানের বড় সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
এই আইনসভা বৈঠকটি গত মাসে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসের পর হচ্ছে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA) জানিয়েছে, নতুন অধিবেশন রাষ্ট্রের সভাপতি নির্বাচনের পাশাপাশি সাম্যবাদী সংবিধান সংশোধন ও সম্পূরক বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবে।
সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, এই অধিবেশনের মূল ফোকাস হতে পারে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানকে সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে কি না। এ ছাড়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে, কিম জং উন দেশটির বহির্বিশ্ব সম্পর্ক নিয়ে নতুন নীতি নির্দেশনা দিতে পারেন।
নতুন নির্বাচিত অ্যাসেম্বলি অধিবেশন কিমকে সুপ্রিম লিডার হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করার সম্ভাবনা জোরালো। যদিও অ্যাসেম্বলি প্রায়শই রাবার-স্ট্যাম্প সংসদ হিসেবে চিহ্নিত হয়, এটি এখনও শাসক দলের সিদ্ধান্তগুলোকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার মূল প্রতিষ্ঠান।
এই নির্বাচনে ৬৮৭ জন ডেপুটির মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি নতুন সদস্য, যা অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোতে বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কিমের পূর্ণ ক্ষমতা আরও দৃঢ় করার প্রচেষ্টা।
নতুন সদস্যদের মধ্যে আছেন কিমের ঘনিষ্ঠ সহকারী জো ইয়ং-ওন, যিনি অ্যাসেম্বলির স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন চেয়ারম্যান চোই রিয়ং-হে পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং নতুন সংসদীয় তালিকায় নেই।
নতুন নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছে কিমের প্রভাবশালী বোন কিম যো-জং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোই সন-হুই। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, এই প্রতিনিধি দল শ্রমিক, কৃষক এবং সরকারি কর্মকর্তা থেকে নির্বাচিত রাজনীতিবিদ হিসেবে পার্টির কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের মাত্র ০.০৭ শতাংশ প্রার্থীদের বিরোধিতা করেছে, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রোপাগান্ডা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ উত্তর কোরিয়ার নির্বাচন সাধারণত গোপন ভোট নয়, আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
