বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

ফ্যামিলি কার্ড: আবেদন করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

দরিদ্র, বেকার ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সরাসরি নগদ সহায়তা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ডেটাবেসভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচিত পরিবারকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে কর্মসূচিটির কাঠামো, ভাতার পরিমাণ ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা জালের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারকরা।


কী এই ফ্যামিলি কার্ড?

ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস-সংযুক্ত পারিবারিক পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে নির্বাচিত উপকারভোগী পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তা পাবে। বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এটি পরিচালিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী প্রধানের (গৃহকর্ত্রী) হাতে পৌঁছানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে, যাতে নারীর আর্থিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়।


ভাতার পরিমাণ ও লক্ষ্য

নীতিমালার খসড়া অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রদত্ত সহায়তার পরিমাণ প্রচলিত কয়েকটি ভাতার তুলনায় বেশি হতে পারে। যদিও সুনির্দিষ্ট অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি, উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করা হবে।

সরকার আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে যোগ্য পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।


পাইলট প্রকল্প ও বাস্তবায়ন

আসন্ন ঈদুল ফিতর-এর আগে কয়েকটি এলাকায় পাইলট কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট উপজেলা ও পৌরসভায় তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করে উপকারভোগীদের নির্বাচন করা হবে।

পাইলট সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।


কারা অগ্রাধিকার পেতে পারেন?

প্রাথমিকভাবে যেসব পরিবার অগ্রাধিকার পেতে পারে—

  • বেকার বা স্বল্প আয়ের পরিবার
  • নারী প্রধান পরিবার
  • বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা বা প্রবীণ সদস্য রয়েছে এমন পরিবার
  • প্রতিবন্ধী সদস্য অন্তর্ভুক্ত পরিবার
  • নিম্ন-মধ্যবিত্ত হলেও আর্থিক সংকটে থাকা পরিবার

চূড়ান্ত যোগ্যতার মানদণ্ড সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।


আবেদন প্রক্রিয়া

সরকার আবেদন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্ভাব্য ধাপগুলো হলো—

১. তালিকাভুক্তি:
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীর প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত।

২. সরাসরি আবেদন:
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ফর্ম সংগ্রহ ও জমা।

৩. অনলাইন আবেদন:
ডিজিটাল পোর্টাল চালুর পর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন। নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।


আবেদন করতে সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • পরিবারের সদস্যদের তথ্য
  • আয়সংক্রান্ত তথ্য বা সনদ
  • স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) নম্বর

সরকারি নির্দেশনা প্রকাশের পর চূড়ান্ত তালিকা জানানো হবে।


সতর্কতা

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বা নিবন্ধন থেকে বিরত থাকতে হবে। আবেদন সংক্রান্ত সব তথ্য স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারের নির্ধারিত মাধ্যমে নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কার্যকর হলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে পারে। তবে ভাতার পরিমাণ, চূড়ান্ত যোগ্যতার মানদণ্ড ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারি গেজেট বা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...