নারী এশিয়ান কাপে টানা দ্বিতীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। চীনের পর এবার উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে মাঠের ফল যাই হোক, দলের লড়াই করার মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও মেয়েদের নিবেদন দেখে গর্বিত প্রধান কোচ পিটার বাটলার।
হারলেও লজ্জিত নন বাটলার
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হারের ব্যবধান নিয়ে কোনো অজুহাত দেননি বাটলার। বরং প্রতিপক্ষের শক্তিকে স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, “আমি মোটেও মন খারাপ করিনি। এই মেয়েদের নিয়ে আমি গর্বিত। উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের কাছে হারলে লজ্জার কিছু নেই। তারা অন্য গ্রহের ফুটবল খেলছে।”
গোলপোস্টের নিচে মিলির ‘অগ্নিপরীক্ষা’
পাঁচ গোল হজম করলেও ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তি গোলরক্ষক মিলি আক্তারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। পোস্টের নিচে মিলির দৃঢ়তা না থাকলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। কোচের কণ্ঠেও ঝরল মিলির প্রশংসা, “মিলি একজন সত্যিকারের সৈনিক, একজন যোদ্ধা। আজ তাকে রীতিমতো অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল। আমাদের গোলকিপিং বিভাগ কিছুটা দুর্বল হলেও মিলির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।”
কৌশল ও ক্লান্তি: কেন হার?
প্রথমার্ধের শেষ দিকে একসাথে তিনজন খেলোয়াড় বদলানো নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বাটলার তার ব্যাখ্যায় জানান, গত ম্যাচের মতো যেন ক্লান্তির কারণে বিরতির ঠিক আগে গোল হজম করতে না হয়, সেজন্যই তিনি সতেজ খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছিলেন। তবে বারবার গোল হজমের কারণ হিসেবে তিনি ‘মনোযোগের অভাব’ এবং ‘আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি’কে দায়ী করেছেন।
কাঠামোগত দুর্বলতার আক্ষেপ
বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান কাঠামোর কড়া সমালোচনাও শোনা গেল কোচের কণ্ঠে। তিক্ত সত্যটি তুলে ধরে তিনি বলেন:
“আমরা এমন দলের বিরুদ্ধে লড়ছি যাদের বিপরীতে আমাদের ঘরোয়া লিগ মাত্র ১০ ম্যাচের। প্রস্তুতিও খুব একটা ভালো ছিল না। মেয়েরা যদি নিয়মিত উন্নত লিগে খেলার সুযোগ পেত, তবে জাতীয় দলে তাদের অবদান আরও শক্তিশালী হতো।”
লক্ষ্য এখন পরবর্তী ম্যাচ
হারের বৃত্তে থাকলেও হাল ছাড়তে নারাজ বাংলাদেশ শিবির। দলের গড় বয়স মাত্র সাড়ে ১৯ বছর উল্লেখ করে বাটলার জানান, এই তরুণ দলটিকে নিয়ে তিনি নতুন করে শুরু করতে চান। সিডনিতে গিয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়ে পরের ম্যাচে হাসিমুখে মাঠে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই ব্রিটিশ কোচ।
