নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা
দেখতে দেখতে এসে গেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ভারতের আহমেদাবাদের ঐতিহাসিক নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ।
ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি ইভেন্টের তিনটি আলাদা ফরম্যাটের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। এর আগে ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির (ওয়ানডে) ফাইনালেও একে অপরের বিপক্ষে খেলেছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত এর আগে দুইবার শিরোপা জিতেছে—২০০৭ সালে প্রথম আসরে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড একবার ফাইনালে উঠলেও এখনও শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। ২০২১ সালের আসরে ফাইনালে উঠেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল কিউইদের।
দুই দলের টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৩০টি ম্যাচে ভারতের পাল্লাই ভারী। ভারত জিতেছে ১৮টি ম্যাচ, নিউজিল্যান্ড জিতেছে ১১টি এবং একটি ম্যাচ টাই হয়েছে।
নিজেদের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের রেকর্ডও বেশ শক্তিশালী। ১৫টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ১১টিতে। দুই দলের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছিল চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি। সেই ম্যাচে ভারত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭১ রান তুলে নিউজিল্যান্ডকে ৪৬ রানে হারিয়ে সিরিজ ৪–১ ব্যবধানে জিতে নেয়।
তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের রেকর্ড মোটেই ভালো নয়। এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবারই হেরেছে ভারত। সর্বশেষ ২০২১ সালের বিশ্বকাপে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে মাত্র ১১০/৭ রান করেছিল। জবাবে নিউজিল্যান্ড ১৪.৩ ওভারেই লক্ষ্য পূরণ করে জয় তুলে নেয়।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেও ভারতের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড বেশ ভালো। এখানে ১০টি ম্যাচ খেলে ভারত জিতেছে ৭টিতে। এই মাঠে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর ২৩৪/৪, যা ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা হয়েছিল। সেই ম্যাচে শুভমান গিল খেলেছিলেন অপরাজিত ১২৬ রানের ইনিংস।
তবে ভারতীয় সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের বিষয়ও রয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আইসিসি ইভেন্টে ভারতের মাত্র দুটি হার এসেছে, আর দুটি হারই হয়েছে এই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে। সেই হারটিও এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, এবং সেটিও হয়েছিল আহমেদাবাদের এই মাঠেই।
সবকিছু মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই—ইতিহাস বদলে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত কি তৃতীয় শিরোপা জিতবে? নাকি প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়বে নিউজিল্যান্ড?
