বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

৫৪০ বছরের এক অনন্য নিদর্শন নওগাঁর কুসুম্বা মসজিদ

প্রথম সমাচার ডেস্ক ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের প্রচলিত পাঁচ টাকার নোটের পেছনে যে পাথুরে মসজিদের ছবি আমরা দেখি, তার বাস্তব অস্তিত্ব নওগাঁর মান্দা উপজেলায়। প্রায় ৫৪০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক এই কুসুম্বা মসজিদটি আজও আভিজাত্য নিয়ে টিকে আছে। সুলতানি আমলের এই অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে বিশাল এক দিঘির পাড়ে ধূসর বর্ণের এই পাথুরে স্থাপত্য। ইতিহাসের পাতায় এটি ‘কুসুম্বা শাহী মসজিদ’ নামে পরিচিত। ১৫৫৮ থেকে ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে সুলতান গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে এটি নির্মাণ করেন সুলতান সোলায়মান নামে এক ব্যক্তি।

কুসুম্বা শাহী মসজিদ এর ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. ইস্রাফিল আলম জানান, মসজিদটির কারুকাজ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট ও প্রস্থ ৪২ ফুট ৬ ইঞ্চির এই মসজিদে রয়েছে ৬টি গোলাকার গম্বুজ। মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে একটি উঁচু আসন বা এজলাস, যা থেকে তৎকালীন বিচারকার্য পরিচালনা করা হতো বলে ধারণা করা হয়। কালো পাথরের নিখুঁত লতাপাতার নকশায় ঘেরা এই মসজিদে প্রায় ২৫০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। কালো পাথরে নির্মিত এই মসজিদটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। অনেকে জিন দিয়ে তৈরির গল্প বললেও এটি আসলে সুলতানি আমলের একটি নির্মাণ।

পর্যটকরা এখানে শুধু নামাজ পড়তেই নয়, বরং এর স্থাপত্যশৈলী দেখতেও আসেন। মসজিদের পাশেই রয়েছে ৭৭ বিঘার এক সুবিশাল দিঘি। স্বচ্ছ জলরাশি আর দিঘির পাড়ের সৌন্দর্য পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন দেয়। ২০১৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে এখানে আলোকসজ্জা ও ফুলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুরো মসজিদ এলাকা এখন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশ্রামাগার।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখাতার জাহান সাথী জানান, কুসুম্বা মসজিদকে আরও আকর্ষণীয় করতে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। পর্যটকদের জন্য বিশ্রাম ঘর নির্মাণসহ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত সংস্কার কাজও চলমান রয়েছে।

১৯৭২ সালে কে জি মুস্তফার নকশা করা পাঁচ টাকার নোটে এই মসজিদের ছবি স্থান পাওয়ার পর থেকেই এর পরিচিতি দেশজুড়ে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরছে এই কুসুম্বা মসজিদ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ আর আধুনিক পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...