ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩৬৫ জন।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান চারটি শাখায়। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদস্য সেনাবাহিনীর, যার সংখ্যা ২৪৭ জন।
এ ছাড়াও নৌবাহিনীর ৬৩ জন নাবিক, ১৯ জন মেরিন সেনা এবং বিমানবাহিনীর ৩৬ জন সদস্য এই তালিকায় রয়েছেন। তবে একই দিনে ইরানে দুটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে এক বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিজের শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডাদের মৃত্যুর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা একদিনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের এই প্রবল প্রতিরোধের মুখে মার্কিন বাহিনীর শুধু প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই পেন্টাগনের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
