স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে হামের টিকার অভাবে কোনো শিশুর মৃত্যু হবে না—এ লক্ষ্যেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রোববার সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি সেবা জোরদার করা হয়েছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনো শিশুকে চিকিৎসার অভাবে ঝুঁকিতে পড়তে না হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববর্তী সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় বর্তমানে কিছু এলাকায় হামের সংক্রমণ বেড়েছে। তবে নতুন উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর সহায়তায় দেশে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৮২ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, যেসব এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণ বেড়েছে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে অভিভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
