২০২৬ সালের পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১৭তম ম্যাচে করাচি কিংসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে পেশোয়ার জালমি। করাচির ন্যাশনাল ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পেশোয়ার জালমি প্রথমে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়ে এবং পরবর্তীতে করাচি কিংসকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফেলে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচজুড়ে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন পেশোয়ারের উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুশল মেন্ডিস।
টস জিতে করাচি কিংসের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। ইনিংসের শুরুতে মোহাম্মদ হারিস দ্রুত বিদায় নিলেও পেশোয়ারের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন বাবর আজম ও কুশল মেন্ডিস। এই জুটি করাচির বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাঠের চারদিকে রানের বন্যা বইয়ে দেন। বাবর আজমের ধ্রুপদী ব্যাটিং এবং মেন্ডিসের আক্রমণাত্মক মেজাজে পেশোয়ার বড় স্কোরের পথে এগিয়ে যায়।
ব্যাট হাতে লঙ্কান তারকা কুশল মেন্ডিস ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৫২ বলে ১০৯ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে অধিনায়ক বাবর আজম ৫১ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসের শেষ দিকে আব্দুল সামাদ মাত্র ১২ বলে ৪টি ছক্কা ও ৩টি চারে ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেললে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় পেশোয়ার জালমি। করাচির পক্ষে আব্বাস আফ্রিদি ৫৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।
২৪৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে করাচি কিংসের ব্যাটিং লাইনআপ। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। মিডল অর্ডারে আজম খান (২৫) ও সাদ বেগ (১৪) কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও পেশোয়ারের বোলারদের তোপে তা যথেষ্ট ছিল না। মাত্র ৮১ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় করাচি। মূলত বিশাল রানের চাপে পিষ্ট হয়ে কিংসের ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।
পেশোয়ার জালমির বোলাররা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং ধারালো। তরুণ পেসার নাহিদ রানা ২.৫ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে করাচির টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন। অভিজ্ঞ ইফতিখার আহমেদও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন, তিনি ৯ রানে শিকার করেন ২ উইকেট। এছাড়া সুফিয়ান মুকিম ১৩ রানে ২ উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ২৩ রানে ১ উইকেট নিয়ে করাচির পরাজয় ত্বরান্বিত করেন। সব মিলিয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পেশোয়ার জালমি এক দাপুটে জয় তুলে নেয়।
