বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ১০ এপ্রিল ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এদিন জাতীয় সংসদে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল’ পাস হয়েছে।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজকে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনতেই এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে সাত কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বাড়তি চাপ কমিয়ে একটি স্বতন্ত্র উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ।
দীর্ঘদিন ধরে এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিজনিত কারণে সেশনজট এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের মতো নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরা একটি স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে রাজপথে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন এই বিল পাসের মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার ফলে এই সাতটি কলেজ এখন থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হবে।
এর ফলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক সিলেবাস প্রণয়ন এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কাঠামোগত পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিচয় সংকট দূর করবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।
সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করল, যা ভবিষ্যতে রাজধানী কেন্দ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
