সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি দাবি ঘুরে বেড়ায়—পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে নাকি বাংলা ভাষা দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে দেশটি বাংলাকে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
তবে এই প্রচলিত ধারণার পেছনে রয়েছে এক সম্মানজনক ইতিহাস।
২০০২ সালে সিয়েরা লিওনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ তেজান কাব্বাহ বাংলা ভাষাকে ‘সম্মানসূচক ভাষা’ (Honorary Language) হিসেবে ঘোষণা করেন। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের প্রতীকী উদ্যোগ।
কেন দেওয়া হয়েছিল এই সম্মান?
১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সিয়েরা লিওনে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চলে। সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাংলাদেশি সেনারা। তাদের সাহসিকতা ও মানবিক সহায়তা স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করে।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে থাকেননি; তারা রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ, চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়, যা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।
এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট কাব্বাহ বাংলাকে সম্মানসূচক মর্যাদা দেন। তবে এটি প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সুনাম ও অবদানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলা ভাষার প্রতি এ সম্মান বাঙালির জন্য গর্বের হলেও, এটিকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
