চন্দনাইশ সিভিল সোসাইটি (CCS) নামক চন্দনাইশের সচেতন নাগরিকদের সংগঠন গরু ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিছু দাবি পেশ করেন।
বিবৃতিতে তারা জানান— গৃহপালিত পশু চুরি ও ডাকাতের গুলিতে কৃষকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় চন্দনাইশ সিভিল সোসাইটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
চন্দনাইশ পৌরসভার উত্তর জোয়ারায় গরু চুরির সময় বাধা দিতে গিয়ে এক কৃষক ডাকাতের গুলির শিকার হয়েছেন। গরু কেবল সম্পদ নয়; এটি গ্রামীণ পরিবারের অর্থনীতি, শ্রম, স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অবলম্বন। তাই আমরা চন্দনাইশ সিভিল সোসাইটি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং জননিরাপত্তা আনয়নে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আমরা লক্ষ্য করেছি, সাম্প্রতিক সময়ে চন্দনাইশে গরু চুরি, মাদকের বিস্তার, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও ডাকাতির ঘটনা লক্ষনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই উপজেলার সার্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আমরা চন্দনাইশ সিভিল সোসাইটি এর পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরছি-
১. প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে “সিটিজেন ফোরাম ও কুইক রেসপন্স টিম” গঠন করতে হবে। এটি হবে প্রতিরোধমূলক, সচেতনতামূলক ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াভিত্তিক একটি নাগরিক উদ্যোগ।
২. কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্য অপরিহার্য। অপরাধীদের সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
৩. অনলাইন ও অফলাইনে নাগরিক ভূমিকা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি প্রশাসনের সাথে সংযোগ তৈরি করতে হবে।
৪. সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব তদন্তমূলক প্রতিবেদন ও ধারাবাহিক অনুসন্ধান অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, গ্রামীণ প্রবেশপথে সিসিটিভি স্থাপন অপরাধ শনাক্তে সহায়ক হবে।
৬. মাইকিং, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সাইরেন ব্যবস্থা জরুরি সংকেত প্রদানের জন্য দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৭. নির্দিষ্ট হটলাইন ও ইমেইল তথ্য প্রদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর ও ইমেইল চালু করা যেতে পারে।
৮. সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ আইনের মধ্যে থেকে সতর্ক নজরদারি ও তথ্য প্রদান অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
৯. সক্রিয় নাগরিক সমাজ নাগরিক সমাজ, মসজিদ-মন্দির কমিটি, বাজার কমিটি ও সামাজিক সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ০১ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ায় গরু ডাকাতির ঘটনায় চন্দন দে (৭০) গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে তিনি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহিনতায় ভোগছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানায় ডাকাতরা ৩টি গরু ছিনতায় করে নিয়ে যায়।
