কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়ন-এর পাঁচলীপাড়া গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী সৌদি আরবে কর্মরত। পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার যুবক মোস্তাকিম—যিনি স্থানীয়ভাবে আত্মীয়-পরিচিত হিসেবে পরিচিত—জোরপূর্বক ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ভুক্তভোগীর মা গণমাধ্যমকে বলেন,“আমার মেয়ের স্বামী প্রবাসে থাকেন। এই সুযোগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”পরিবারের দাবি, সামাজিক চাপে না পড়ে তারা দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা গেছে—অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে—অনেক ক্ষেত্রে মামলা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহে দুর্বলতা থাকে। সামাজিক ও পারিবারিক চাপে ভুক্তভোগী পরিবার আপসের পথে হাঁটে। ফলে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
গ্রামীণ সমাজে আত্মীয়-প্রতিবেশীর ওপর আস্থাই প্রধান নিরাপত্তা বলয়। সেই আস্থার জায়গা ভেঙে গেলে ভুক্তভোগীরা শুধু শারীরিক নয়, গভীর মানসিক ট্রমার শিকার হন।
ধর্ষণের মতো অপরাধে সামাজিক লজ্জা, কুৎসা বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় বহু নারী মুখ খুলতে চান না। ফলে অসংখ্য ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়।
এই ঘটনায় পরিবারের দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়াকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু শাস্তি নয়—প্রতিরোধমূলক সচেতনতা, সামাজিক সংহতি এবং দ্রুত বিচারই পারে এ ধরনের অপরাধ কমাতে।
কটিয়াদীর এ ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—প্রবাসী পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নারী নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব নয়।
তদন্ত শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এই ঘটনার আইনি পরিণতি নির্ধারিত হবে। তবে সামাজিকভাবে এ বার্তা স্পষ্ট—অপরাধের বিরুদ্ধে নীরবতা নয়, প্রতিরোধই একমাত্র পথ।
