শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Logo
×

লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষে পড়বে সরকার

প্রথম সমাচার ডেস্ক ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আজ ঢাকা
থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন জোট নেতারা। তবে বাধা দেয়া হলে সরকার জনরোষের মুখোমুখি হবে বলে সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বলেছেন, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সরকারকে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিতে হবে। গতকাল লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর মগবাজারের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসব কথা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আজ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সহস্রাধিক গাড়ির বহর থাকবে।
ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতাসীন দল যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, যাদের অধীনে প্রশাসন, আমলাসহ অন্যান্য সংস্থা রয়েছে- যাদের হাতে জনগণের জান ও মাল নিরাপত্তা পাবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারে গঠনের পর জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থায় থাকবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকারের কোনো দল বা কেউ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারাচ্ছেন, আরও হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হবে। আশাকরি এরকম কোনো অপরিণামদর্শী পথে সরকার ও সরকারি দলের কেউ পা বাড়াবে না।

গণভোটের কথা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়নি। বরং গণরায় বাস্তবায়ন করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে আমাদের স্পষ্ট কথা হচ্ছে গণভোটের গণরায়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই। গণভোটে বিএনপি’র নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে। আমরা জুলাই বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে একসঙ্গে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না, জনগণের ও আমাদের দাবি হলো গণভোটের গণরায়কে আপনারা মেনে নেন। আমাদের ৬ দফা আপনারা মেনে নিন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে প্রমাণিত হোক বিরোধী দল ও সরকারি দলের পরমতসহিষ্ণতা রয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা যে ছিল সেই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছি না। নিরাপদ শান্তিপূর্ণ লংমার্চে জনগণের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির কোনো কারণ নেই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের মহাপরিদর্শককে ১১ দল লিখিতভাবে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করেছে। রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার জনগণ লংমার্চকে অভিবাদন জানাবে।

তিনি বলেন, ৫ই সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে ইতিমধ্যে। লংমার্চের বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে বলে আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মিরেরসরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম; জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ৬ই আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লংমার্চ’ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ই অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪শে অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লংমার্চ শেষে ১৪ই নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...