ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বোলারদের চরম আধিপত্যে মাত্র দুই দিনেই ম্যাচের রূপ পরিবর্তন হয়েছে বারবার। পেসারদের তীব্র সুইং আর বাউন্সে ব্যাটাররা যেখানে রান তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বসেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ২৫৪ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিনের শেষভাগে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে নিউজিল্যান্ড। দিনশেষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৬ রান তুলতেই কিউইরা হারিয়ে ফেলেছে ৩টি মূল্যবান উইকেট, যার ফলে জয়ের জন্য এখনও তাদের প্রয়োজন ২১৮ রান।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দু-দলের ব্যাটাররাই সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দেন। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। হ্যারি ব্রুকের লড়াকু ৫৬ রান ছাড়া আর কেউ কিউই পেসার কাইল জেমিসনের বিষাক্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি; চোট কাটিয়ে ফেরা জেমিসন একাই নেন ৫ উইকেট। তবে জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে আরও বড় বিপর্যয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ওলি রবিনসনের ৫ উইকেটের বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ২৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। শেষ পর্যন্ত গ্লেন ফিলিপস ও জেমিসনের লোয়ার-অর্ডার প্রতিরোধে ১১৩ রান তুলতে সক্ষম হয় সফরকারীরা, যার ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ২৭ রানের লিড পায় ইংল্যান্ড।
২৭ রানের লিড মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছিল। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ওপেনার এমিলিও গে চমৎকার এক অর্ধশতক (৫৭) উপহার দিয়ে দলের ভিত শক্ত করেন। এছাড়া বেন ডাকেটের ৩৩ এবং জেমি স্মিথের ৩৯ রানের ওপর ভর করে একপর্যায়ে বড় সংগ্রহের দিকেই যাচ্ছিল ইংলিশরা। কিন্তু তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন কিউই বোলার নাথান স্মিথ। তার অনবদ্য সুইং বোলিংয়ের সামনে জো রুট ও বেন স্টোকসের মতো বিশ্বমানের ব্যাটাররা লাইন হারিয়ে বসেন। নাথান স্মিথের ৭০ রানে ৬ উইকেটের চোখধাঁধানো ফাইফার ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসকে ২২৬ রানে থামিয়ে দেয়।
প্রথম ইনিংসের লিডসহ নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫৪ রান। এই কঠিন উইকেটে আড়াইশর ওপর রান তাড়া করা যে মোটেও সহজ হবে না, তা প্রথম ওভারেই টের পায় কিউইরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগেই অধিনায়ক টম লাথামকে সাজঘরে ফেরত পাঠান গাস অ্যাটকিনসন। এরপর দলের সবচেয়ে বড় ভরসা কেন উইলিয়ামসন (১৮ রান) জোশ টাঙ্গুর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ম্যাচ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের ঠিক শেষ বলে নাইটওয়াচম্যান উইল ও’রোর্ককে বোল্ড করে নিউজিল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন অ্যাটকিনসন। ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে থেকে মাঠ ছাড়ে কিউইরা। ক্রিজে এখন একমাত্র ভরসা হয়ে টিকে আছেন ডেভন কনওয়ে। ম্যাচের তৃতীয় দিনে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা। অন্যদিকে রাচিন রবীন্দ্র ও ড্যারিল মিচেলদের মতো ব্যাটারদের ব্যাটে অলৌকিক কিছুর আশায় থাকবে নিউজিল্যান্ড।
