বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Logo
×

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কবে থেকে, কোন দেশগুলো আওতায় পড়ছে

প্রথম সমাচার ডেস্ক ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর দ্রুত নতুন করে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার রাতে এক নির্বাহী আদেশে সই করে তিনি সারা বিশ্ব থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর এই শুল্ক বসান।

এবার তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করেছেন। এই আইনে বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং এটি ১৫০ দিন বহাল থাকবে।

এর আগে ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়ে জানান, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। ফলে আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ে আগের কাঠামো ভেঙে পড়লেও নতুন আইনি পথ ব্যবহার করে ট্রাম্প তার বাণিজ্য নীতিকে অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি করেছেন।

 

কোন দেশগুলো পড়ছে আওতায়

নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশসহ অধিকাংশ রপ্তানিকারক দেশই এই শুল্কের আওতায় পড়বে।

তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি United States-Mexico-Canada Agreement এর শর্ত পূরণ করে, সেগুলো এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

এ ছাড়া ওষুধশিল্প, অ্যারোস্পেস পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কৃষিপণ্যকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

 

ফেরত দিতে হতে পারে হাজার কোটি ডলার

আদালতের রায়ের ফলে আগের শুল্ক হিসেবে আদায় করা অর্থ নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। University of Pennsylvania-এর এক প্রাক্কলনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম এই অর্থকে অবৈধভাবে আদায় করা টাকা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সুদসহ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই হতে পারে।

 

বিশ্ববাজারে নতুন অনিশ্চয়তা

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্ববাণিজ্যে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং জানিয়েছেন, কানাডাকে আরও কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আগের শুল্ক বাতিল হলেও নতুন শুল্ক রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতে সহায়ক হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই শুল্ককে বাণিজ্যিক চাপ ও আলোচনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার আরও বাড়িয়েছেন। নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থা বিশ্ববাণিজ্যে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র : সিএনবিসি

শেয়ার করুন:
লিঙ্ক কপি হয়েছে
Loading
আরও নিউজ লোড হচ্ছে...