ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে যারা হিসাব ভেঙে অর্থ উত্তোলন বা অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করেছিলেন, তাদের অনেকেই আবার পুরোনো হিসাবে অর্থ ফেরত জমা দেওয়া শুরু করেছেন। চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের পর ব্যাংকটিতে এমন ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৭ জুন) একদিনেই ১ হাজার ৪৪২টি হিসাব পুনরায় চালু হয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার আরও ৫৫২টি হিসাব সচল করা হয়। দুই দিনে মোট প্রায় দুই হাজার গ্রাহক ব্যাংকে ফিরে এসেছেন এবং এসব হিসাবে ১৫০ কোটির বেশি টাকা পুনরায় জমা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বুধবার পর্যন্ত ব্যাংকটির নগদ তারল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। গত ১ জুন এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৭ দিনে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার তারল্য কমেছে। তবে গত কয়েক দিনে জমা ও উত্তোলনের ব্যবধান কমতে শুরু করেছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি।
ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসাইন বলেন, আগের তুলনায় আমানত উত্তোলনের হার কমেছে। অনেক গ্রাহক ভাঙা হিসাব পুনরায় চালু করে অর্থ জমা দিচ্ছেন এবং যারা অন্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করেছেন, তারাও টাকা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রক্রিয়াগত কারণে কিছুটা সময় লাগলেও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে ১৫ জুন ইসলামী ব্যাংক এক বিশেষ নোটিশে জানায়, চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে যারা মেয়াদপূর্তির আগেই (প্রি-ম্যাচিউর) সঞ্চয় বা আমানত হিসাব ভেঙেছেন, তারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব পুনরায় চালু করলে প্রি-ম্যাচিউর নগদায়নের কারণে আরোপিত সব ধরনের খরচ ও আর্থিক ক্ষতি মওকুফ করা হবে।
এদিকে ব্যাংকটির তারল্য সংকট মোকাবিলায় বুধবার আরও এক হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে গত চার দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ইসলামী ব্যাংক মোট ৭ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেয়েছে। এর আগে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার নগদ সহায়তা চেয়েছিল।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনা, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
